প্রতি বছর দিওয়ালির সময় একটি পত্রিকা প্রকাশ করে গুজরাট সরকার। সেই পত্রিকার একটি কবিতা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ওই কবিতায় ভগবান রাম এবং সন্ত মীরাবাইকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করা হয়েছে। এই অবস্থায় বিতর্ক এড়াতে পত্রিকার অনলাইন ভার্সান থেকে ওই কবিতাটিকে দ্রুত বাদ দিল গুজরাট প্রশাসন।
দিওয়ালি উপলক্ষে পত্রিকাটি প্রকাশ করেছিল গুজরাট সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। সেখানে ছিল প্রখ্যাত গুজরাটি কবি আজিজ তানকারভির কবিতা ‘গুজরাট দীপোৎসব অঙ্ক’। যা নিয়ে আপত্ত করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এবার তার বদলে স্থান পেয়েছে আরেক পরিচিত কবি প্রকাশ জালালের ‘জয়ি’। জানা গিয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে চিঠি লেখে বিশ্বহিন্দু পরিষদ। সেখানে বলা হয়, অবিলম্বে ‘গুজরাট দীপোৎসব অঙ্ক’ কবিতাটিকে বাদ দিতে হবে। কবি এবং যে আধিকারিকরা এই কবিতাকে দিওয়ালি পত্রিকায় অনুমোদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভিএইচপি-র মূল দাবি, কবিতা বাতিলের বিষয়টি মেনে নিয়েছে গুজরাট সরকার। এই বিষয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র হিতেন্দ্রসিংহ রাজপুত বলেন, “আমরা আনন্দিত যে রাজ্য সরকার আমাদের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দিয়ে দিওয়ালি পত্রিকা থেকে সেই বিতর্কিত কবিতাটি সরিয়ে দিয়েছে।” উল্লেখ্য, চিঠিতে ভিএইচপি-র আহমেদাবাদ অঞ্চলের সম্পাদক অশ্বিন প্যাটেল এই বছরের ম্যাগাজিনের ৩৮৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত কবিতাটির বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, এতে ভগবান রাম ও মীরা বাই সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। যা হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে।
ভিএইচপি জানিয়েছে, সরকারি প্রকাশনায় এই ধরনের রচনা অন্তর্ভুক্ত করাটা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ দিওয়ালি উৎসবটি ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান রামের অযোধ্যায় ফিরে আসার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। কবিতাটি অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। সরকারি প্রকাশনায় কোনও লেখকের রচনা অন্তর্ভুক্ত করার আগে তাঁদের পূর্ববর্তী কাজগুলি পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরও দাবি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি প্রকাশনাগুলোতে এমন লেখকদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যাদের জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
