কাজের চাপ এতটাই যে ঘুমের জন্যও সময় বের করতে পারছেন না অমিতাভ বচ্চন! সম্প্রতি নিজের ব্লগে এমনই জানিয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর কথায়, রাতের ঘুমই শরীরের নিজেকে সারিয়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। অথচ ব্যস্ত কাজের সূচিতে সেই ঘুমটুকুই অনেক সময় অধরা! এমনকী, সকালে সময়মতো কাজে পৌঁছতে আগেভাগে ঘুমনোরও চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অমিতাভের এই কথাগুলো আসলে শুধু তাঁর ব্যস্ত জীবনযাপনের কথা নয়। কাজের চাপে রাত জাগা, কম ঘুমিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে যাওয়া এখন বহু মানুষেরই অভ্যাস। কিন্তু শরীরকে নিয়মিত ঘুম থেকে বঞ্চিত করলে তার মাশুল দিতে হতে পারে। স্মৃতিশক্তি থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হৃদ্যন্ত্র থেকে বিপাকক্রিয়া, এমনকী মানসিক স্বাস্থ্যেও পড়তে পারে তার প্রভাব।
ঘুমের মধ্যেই শরীরের মেরামতি
ঘুমের সময়ও শরীরের কাজ থেমে থাকে না। বরং এই সময়েই শরীর দিনের ধকল কাটিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করার সুযোগ পায়। মস্তিষ্কে স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলে, ঘুম সাহায্য করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে এবং বিভিন্ন হরমোনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে। প্রাপ্তবয়স্কদের রাতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তবে শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হচ্ছে, সেটাই শেষ কথা নয়। ঘুম নিয়মিত এবং নিরবচ্ছিন্ন হওয়াও জরুরি।

প্রথম ধাক্কা মস্তিষ্কে
ঘুমের ঘাটতি হলে তার প্রভাব দ্রুতই টের পাওয়া যায় মস্তিষ্কের কাজে। মনঃসংযোগে সমস্যা, সতর্কতা কমে যাওয়া, স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতায় প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল বাড়তে পারে। সমস্যা হল, দীর্ঘদিন কম ঘুমিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অনেকেই মনে করেন, তাঁরা ঠিকই কাজ চালিয়ে নিতে পারছেন। কিন্তু শরীরের ভিতরে ঘুমের ঘাটতি যে তৈরি হচ্ছে, তা সবসময় নিজের অনুভূতিতে ধরা পড়ে না।
বাড়তে পারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি
ঘুমের সঙ্গে হৃদ্স্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম সাহায্য করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। অন্যদিকে, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণা রিপোর্টে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, রাত জাগার প্রভাব শুধু পরদিনের ক্লান্তি বা চোখের তলায় কালিতে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে দিনের পর দিন ঘুমের ঘাটতি।

ওজন ও সুগারেও প্রভাব
কম ঘুম শরীরের বিপাকক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুমের ঘাটতিতে খিদে ও খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইসঙ্গে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি তাই টাইপ ২ ডায়াবিটিস-সহ বিভিন্ন বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।
ক্লান্ত হয় মনও
ঘুম কম হলে শুধু শরীর নয়, মনও তার ধকল সামলাতে পারে না। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা স্ট্রেস সামলানোর ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। এর সঙ্গে অবসাদ-সহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যারও যোগ রয়েছে। তাই কম ঘুমিয়েও দিব্যি কাজ করা যাচ্ছে মানেই শরীর ঠিক আছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই।
এক-দু’দিন নয়, বিপদ অভ্যাসে
মাঝেমধ্যে এক রাত কম ঘুম হলে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না। বিপদ তৈরি হয় যখন দিনের পর দিন কাজের জন্য ঘুমের সময় আসতে আসতে কমতে থাকে। তখন ধীরে ধীরে জমতে থাকে ‘স্লিপ ডেট’, অর্থাৎ ঘুমের ঘাটতি।
অমিতাভ বচ্চনের কথায় রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। ঘুম কোনও বিলাসিতা নয়, শরীরের পুনরুদ্ধারের অপরিহার্য অংশ। তাই কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও ঘুমের জন্য সময় বের করা সুস্থ থাকারই অংশ।
