আজ, সোমবার থেকে কলকাতায় মাত্র দু’দিনের জন্য জাতীয় শিবির। এখানেই প্র্যাকটিস করে সাফ কাপে পাকিস্তানকে হারাতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ উড়ে যাচ্ছে নৌশাদ মুসার ভারতীয় দল। তাও পুরো দল নিয়ে নয়। মাত্র ১৮ জন ফুটবলার নিয়ে শুরুর পাকিস্তান ম্যাচে খেলতে যাচ্ছে ভারতীয় দল। কোচ নৌশাদ মুসা। তাঁর সহকারী কোচ হিসাবে থাকছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ। যিনি সদ্য আজারবাইজানে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের কোচ ছিলেন। কিন্তু কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়াই প্রায় ভাঙাচোরা দল নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে যাচ্ছেন। তারপরেও কোচ নৌশাদ মুসার মুখে কোনও অভিযোগ কিংবা অজুহাত নেই। বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো ফল করার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী তিনি। আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভাঙাচোরা দল বলার একটাই উদ্দেশ্য, গ্রুপের পরের ম্যাচে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে খেলার আগেই বাকি ১০ জন, মানে মোাট ২৮ জন ফুটবলারকে দলে পেয়ে যাবেন ভারতীয় কোচ।
সিনিয়র দল নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছেন কোচ খালিদ জামিল। স্বাভাবিক ভাবেই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নৌশাদ মুসার হাতে আসে সাফ কাপে কোচিং করানোর দায়িত্ব। যে দলে সিনিয়র ফুটবলারদের জায়গায় বেশিরভাগই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলার। তবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলারদের নিয়ে এই প্রথম সাফে ভারতীয় দল খেলতে নামবে, এরকমটা নয়। এর আগেও কলিন টোল, সুখবিন্দর সিং, আর্মান্দো কোালাসোরা সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতিটাই আলাদা। পাকিস্তান ম্যাচ ৫ নভেম্বর। যা ফিফার ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট করে দেওয়া দিনে নয়। ফলে ৫ নভেম্বরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়তে ক্লাবগুলি বাধ্য ছিল না। কিন্তু গ্রুপের পরের ম্যাচ মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ফিফার ক্যালেন্ডারের তারিখেই খেলতে নামবে ভারতীয় দল। ফলে ক্লাবদেরও ফুটবলার ছাড়তে কোনও অসুবিধা নেই। সেই কারণেই মোহনবাগান, কেরালা ব্লাস্টার্স, পাঞ্জাব এফসি, মহামেডানের মতো কিছু দল ফুটবলার ছাড়ায় ১৮ জন ফুটবলার নিয়ে পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে যেতে পারছেন কোচ নৌশাদ মুসা।
সিনিয়র দল নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছেন কোচ খালিদ জামিল। স্বাভাবিক ভাবেই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নৌশাদ মুসার হাতে আসে সাফ কাপে কোচিং করানোর দায়িত্ব।
ভারতীয় দল আসিয়ান কাপে খেলতে যাবে। শুধুমাত্র এই কারণের জন্যই সাফ কাপ পিছিয়ে নভেম্বরে করে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় দল তৈরি করতে গিয়ে সমস্যা হওয়ায়, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে সাফের কাছে অনুরোধ করা হয়, পাকিস্তান ম্যাচের দিন পিছিয়ে দিতে। কিন্তু সাফ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভারতের জন্য বারবার ম্যাচের দিন বদল করা সম্ভব নয়। এতে ভারতীয় দল যদি সাফে না খেলে, তাহলেও আর কিছু করার নেই। এরপরেই ঠিক হয়, পাকিস্তান ম্যাচের আগে ১৮ জন ফুটবলার যাবে। আর পরের ম্যাচে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ২৮ জন ফুটবলার নিয়ে দল তৈরি করে নিতে পারবে ভারত।
সাফ কাপের প্রস্তুতির জন্য রবিবার রাতেই গুয়াহাটি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন কোচ নৌশাদ মুসা। আজারবাইজানে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের কোচিং করিয়ে কলকাতায় চলে এসেছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজও। তিনিই এই দলে মুসার সহকারী কোচ। রবিবার, ফোনে সাফ কাপে ভারতীয় দলের কোচ নৌশাদ মুসা যখন কথা বলছিলেন, তখন তিনি গুয়াহাটিতে। জানালেন, সোমবার সকালে থেকে কলকাতায় তিনি প্রস্তুতি শুরু করবেন। তবে আশা করছেন, প্রথমদিন প্র্যাকটিসে জনা ১০-১২ জন ফুটবলারকে হাতে পাবেন। মঙ্গলবার, যেদিন দল নিয়ে বাংলাদেশ উড়ে যাবেন, সেদিন সকালের প্র্যাকটিসে মোট ১৮ জন ফুটবলার দলে পেয়ে যাবেন। এরাই খেলবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সেভাবে বলতে গেলে পুরো দল নিয়ে সাফের প্রস্তুতিতে মাত্র ‘একদিন’ সময় পাচ্ছেন মুসা। কিন্তু তাতেও মনে করছেন, পাকিস্তানকে হারাতে সমস্যা হবে না ভারতীয় দলে। বলছিলেন, ‘পাকিস্তানের বেশ কয়েকটা খেলা দেখে নিয়েছি। মনে তো হয় না হারাতে কোনও সমস্যা হবে। আসলে ম্যাচটা ফিফা ডেটে না হওয়ায়, ক্লাবরাও সবাই ফুটবলার ছাড়তে পারছে না। কিন্তু মালদ্বীপ ম্যাচের আগেই বাকি ১০ জন ফুটবলারকে পেয়ে যাব আমরা।’
সাফ কাপের প্রস্তুতির জন্য রবিবার রাতেই গুয়াহাটি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন কোচ নৌশাদ মুসা। আজারবাইজানে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের কোচিং করিয়ে কলকাতায় চলে এসেছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজও।
নৌশাদ মুসা জানালেন, খেলা থাকায় পাকিস্তান ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল তাদের কোনও ফুটবলার ছাড়তে পারেনি। মোহনবাগান এমনিতেই সাফের জন্য ফুটবলার ছেড়েছে। পাকিস্তান ম্যাচের পর মালদ্বীপ ম্যাচের আগে লিস্টন কোলাসোকেও ছেড়ে দিতে পারে সবুজ-মেরুন শিবির। কিন্তু একপ্রকার বিনা প্রস্তুতিতেই দল নিয়ে সাফে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। তারপরেও মুসা মনে করছেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কম প্রস্তুতি কোনও অন্তরায় হবে না।
