Hashtagintro

আত্মঘাতী জিৎ, শ্রাবন্তীর ছবির সহকারী পরিচালক! বন্ধুকে হারিয়ে স্তব্ধ পরিচালক শুভ্রজিৎ, শোকাহত পথিকৃৎ-ঋতুপর্ণা

উৎসবের আবহে টলিউডে শোকের ছায়া। রহস্যমৃত্যু সহকারী পরিচালক দীপঙ্কর সরকারের। পরিচালক পথিকৃৎ বসুর সঙ্গে একাধিক ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন দীপঙ্কর। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত পথিকৃৎ স্বয়ং। দীপঙ্করের মৃত্যুর আকস্মিকতা মেনে নিতে পারছেন না। আপাতদৃষ্টিতে তো সব কিছু ঠিকই ছিল, আচমকা কীভাবে সব ওলটপালট হয়ে গেল! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে টলিপাড়া। পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ও জিৎ অভিনীত ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। এটাই প্রথম নয়, এর আগেও পথিকৃতের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। আর ঠিক সেই কারণেই দীপঙ্করের মৃত্যুর খবর শুনে স্তব্ধ পরিচালক পথিকৃৎ বসু।

সংবাদ প্রতিদিনকে পথিকৃৎ জানিয়েছেন, “নাকতলাতে ওঁর বাড়ি। স্ত্রী রয়েছে। বয়স আনুমানিক ৪২-৪৩। বুঝতে পারছি না এটা কীভাবে ঘটে গেল। প্রায় কুড়ি বছরের বন্ধু। ভীষণ ভালো ছেলে। সাদামাটা মানুষ কাজ পাগল।” নেপথের কারণ এখনও জানা যাচ্ছে না। তবে পথিকৃত দীপঙ্করের স্ত্রীকে ফোন করলে পুলিশ ফোনটা ধরেছিল। সমাজমাধ্যমে শোকজ্ঞাপন করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ‘দবারু’ সিনেমার শুটিংয়ের মুহূর্ত ভাগ করে লিখেছেন, ‘দীপঙ্করের মৃত্যুর খবর শুনে আমি স্তম্ভিত। বহু ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে দাবারুতে কাজ করেছি। জীবন বড়ই অনিশ্চিত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। দীপঙ্করের আত্মার শান্তি কামনা করি। জয় রাম।’

পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে দেবী চৌধুরানী খ্যাত পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রেরও। আত্মঘাতী সহকারী পরিচালক দীপঙ্কর সরকার! দীর্ঘ কুড়ি বছরের বন্ধুর এহেন মৃত্যুসংবাদ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি পরিচালক। শোকস্তব্ধ অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ও। আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উদ্বেগ। খবর, সদ্যপ্রয়াত দীপঙ্কর কাজের কারণে কলকাতায় একা থাকতেন। কাজ বা আর্থিক সমস্যার কথাও কখনও কেউ শোনেননি। কারণ, দীপঙ্কর খুব ভাল কাজ জানেন এবং একের পর এক কাজও করছিলেন।

শহরের বাইরে রয়েছেন অভিনেতা সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। দীপঙ্করের মৃত্যুর খবর শুনে বিশ্বাসই করতে পারেননি। শেষ দেখা না হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই সুজয় লিখেছেন, ‘এই খবর শুনে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে দীপঙ্কর’। বন্ধুকে হারিয়ে সমাজমাধ্য়মে শুভ্রজিতের গভীর শোকবার্তা, ‘আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু, আমার চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট দীপঙ্কর আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেল। কুড়ি বছরের বন্ধুত্ব, ষোলো বছরের একসঙ্গে পথ চলা। কাকাবাবু সিরিজ থেকে চোরাবালি, অভিযাত্রিক, দেবী চৌধুরানী, বিএসএফ এর ডকুমেন্টারি, হোম মিনিস্ট্রির কাজ, এমন কোন কাজ নেই যেখানে ও আমার পাশে ছিল না। পুজোর আগেও কথা হল।’

নতুন কাজ নিয়ে আলোচনার মাঝেই সব শেষ। স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সামনেই লোকেশন রেকি করতে যাব, পরের ছবির প্ল্যানিং নিয়ে। শিডিউল নিয়ে কত কথা, কত তর্ক। তারপর ওর অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া, যেটা বরাবর ও করত। আমার ইউনিটে ওর একটা আলাদা জায়গা ছিল। একমাত্র ওরই অধিকার ছিল আমার সঙ্গে তর্ক করার, ঝগড়া করার। আমার কোন ভুল হলে মুখের ওপর সত্যিটা বলে দেওয়ার সাহস একমাত্র ওরই ছিল। এমন বন্ধু, এমন সহযোদ্ধা আর পাব না। কত রেকি, কত আউটডোর, কত নির্ঘুম রাতের শুটিং একসঙ্গে পার করেছি। আজ সব স্মৃতি হয়ে গেল। ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বন্ধুত্বটা বুকের ভেতরেই থেকে যাবে আজীবন, কিন্তু একসঙ্গে আর পথ চলা হবে না। এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে জানি না। যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস ভাই। তোকে খুব মিস করব।’

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language