ফুটবলমহলে তাঁকে ভালোবেসে ‘ডিক্টেটর’ বলে ডাকে। কিন্তু সেই আদরের ডাকের জেরে কোটি কোটি টাকার লোকসান ভুগতে হল কিলিয়ান এমবাপেকে। দেশের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার বিরুদ্ধে। এবার বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছেন তিনি।
ঠিক কী করেছেন ফরাসি অধিনায়ক? বহুদিন ধরেই নেটদুনিয়ায় ঘোরাফেরা করে তাঁর একটি মিম। চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জেদংয়ের ছবিতেই বসিয়ে দেওয়া হয় এমবাপের মুখ। এবং সেই ছবি নেটিজেনদের বেশ মনে ধরে। তারপর থেকেই ফুটবলমহলে ভাইরাল হয়ে যায় এমবাপের ‘ডিক্টেটর’ ডাকনাম। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানিয়েছিলেন, এই মিমটা তাঁরও বেশ পছন্দের। আর সেখানেই বিপত্তি। মাও জেদংয়ের নাম মনে করতে না পেরে ফরাসি তারকা বলে বসেন, “উনি যেন কে, মনে হয় চিনের একজন ডিক্টেটর।”
এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে চিনা আমজনতার একাংশ। সোশাল মিডিয়ায় তারকা ফুটবলারকে তুলোধোনা করতে থাকেন নেটিজেনরা। তাঁদের মতে, মাও জেদংয়ের সম্পর্কে এমন কটাক্ষমূলক মন্তব্য করে চিনের জাতীয় স্বার্থে আঘাত করেছেন তারকা ফুটবলার। একইসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, মাও জেদংয়ের মতো সম্মানীয় ব্যক্তিত্বের ছবি ব্যবহার করে এহেন মিম তৈরি হচ্ছে কেন? ফুটবল মানচিত্রে চিনের সেরকম গুরুত্ব না থাকলেও সেদেশে এমবাপে যথেষ্ট জনপ্রিয়।
ফরাসি তারকার এই জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেছিল বেশ কিছু ব্র্যান্ড। একাধিক পণ্যের বিজ্ঞাপন করতেন তিনি। কিন্তু মাও জেদংকে নিয়ে মন্তব্য করার পর অন্তত তিনটি পণ্য তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপনী চুক্তি শেষ করে দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এনার্জি ড্রিঙ্ক প্রস্তুতকারী ডংপেং, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী মেংনিউ এবং চিজ উৎপাদনকারী মিল্কগ্রাউন্ড-এই তিন পণ্যের বিজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার সামান্য ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হয়েছে এমবাপের। তার পরের দিনই আর্থিকভাবে ধাক্কা খেলেন। তবে গোটা ঘটনায় ফরাসি তারকার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
