ফোটোগ্রাফার নিয়ে প্রি ওয়েডিং ফটোশুটে গিয়ে বিপত্তি। ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কবলে পড়ল চারচাকা গাড়ি। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। বাইকের সঙ্গে চারচাকার মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে বাইক আরোহীর এবং চারচাকায় থাকা দুই ফটোগ্রাফারের। ঘটনায় জখম আরও পাঁচজন। মঙ্গলবার বেলায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ও আউশগ্রাম সীমান্তে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ নাওয়াজ নামে এক যুবক। তিনি ফটোগ্রাফারের কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি কেশবগঞ্জ চটি এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। আরেকজন ফটোগ্রাফার মশাগ্রামের বাসিন্দা। তিনিও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর নাম জানা যায়নি। এছাড়া মৃতদের তালিকায় রয়েছেন বাইক আরোহী বচ্চন সাউ নামে এই ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি ভাতারের ওড়গ্রামে। বচ্চন কাপড়ের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহর এলাকা থেকে হবু পাত্রপাত্রী একটি স্করপিও গাড়িতে চড়ে প্রি ওয়েডিং ফটোশুটে যাচ্ছিলেন আউশগ্রাম জঙ্গলমহল এলাকায়। অন্যদিকে, দুপুর ১২টা নাগাদ গুসকরা থেকে ব্যবসার কাজ সেরে ফিরছিলেন বচ্চন শাহু। ওড়গ্রাম এবং ঝর্ণা বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তা দিয়ে ওই চারচাকা গাড়িটি দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। সেসময় পথে গাড়ির সামনে একটি ছাগল চলে আসে। সেই পশুটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাইকের সঙ্গে স্করপিও গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে নয়ানজুলিতে উলটে পড়ে স্করপিও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চারচাকা গাড়িটি কয়েকটি পালটি খেয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে।
জানা গিয়েছে, ওই স্করপিও গাড়িতে হবু পাত্রপাত্রী-সহ সাতজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হবু পাত্রপাত্রীও গুরুতর জখম হয়েছেন। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটল? পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
