টলিউডের নামজাদা সহকারী পরিচালক দীপঙ্কর সরকারের রহস্যমৃত্যুতে শোকের ছায়া সিনেজগতে। গত মঙ্গলবার তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকপ্রকাশ করেছিলেন পরিচালক পথিকৃৎ বসু, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শুভ্রজিৎ মিত্র-সহ আরও অনেকে। বুকে শোক চেপে দীপঙ্করের মতো বন্ধুবিয়োগে এবার আবেগপ্রবণ বার্তা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের।
“চারপাশে অনেক কিছু দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে যখন মনে হয় বোধহয় সবই দেখা হয়ে গেল, তখনই জীবন আরেকবার সপাটে চড় মেরে বুঝিয়ে দেয়, এখনও অনেক দেখা, অনেক শোনা, অনেক সওয়া বাকি।…”
‘দেবী চৌধুরানি’, ‘দাবাড়ু’, ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ থেকে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, ‘স্বার্থপর’, ‘কাছের মানুষ’ -এর মতো টলিপাড়ার একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন দীপঙ্কর সরকার। ‘রক্তফলক’,’পর্ণশবরীর শাপ’-সহ একাধিক সিরিজে পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সহকারী হিসেবেও থেকেছেন। দীপঙ্করের সঙ্গে আঠেরো বছরের বন্ধুত্ব পরমব্রতর। দিন দুয়েক গেলেও কিছুতেই যেন তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের খবর বিশ্বাস করতে হচ্ছে না অভিনেতা-পরিচালকের। পরমব্রতর মন্তব্য, “আজ দু’দিনের বেশি হয়ে গেল, কিন্তু আমার এখনও বিশ্বাস হয় না যে দীপঙ্কর নেই। সেই জন্যেই কিছু লিখিনি বা বলিনি কোথাও এই ব্যাপারে এযাবৎ।”

পরমব্রত জানালেন, “‘রক্তফলক’ থেকে ‘ছদ্মবেশি’ হয়ে ‘জননী’, ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬, একের পর এক সিরিজ বা ছবিতে যে মানুষটি সব থেকে নিয়মিতভাবে আমার সঙ্গে, আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে সে হল দীপঙ্কর। এমনকী তারপরে অক্টোবরের শুরুতেও অন্নপূর্ণা বসুর যে ছবিতে আমি শুধুই অভিনয় করেছি, তাতেও ও-ই ছিল সহকারী পরিচালক। ওঁর সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের পরিচয়।” দীপঙ্করের রহস্যমৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই টলিউডে নানা গুঞ্জন দানা বেঁধেছে। কেন আত্মঘাতী হলেন তিনি? কৌতূহল ঘনিষ্ঠমহলেও। পরমব্রত বললেন, “আমরা আসলে ভিতরে ভিতরে খুব ভঙ্গুর। কোথায় কখন মনের কোন কোনায় কী কারণে ভাঙ্গন ধরে, কেউ খবর রাখে না, আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানাইও না কাউকে। চারপাশে অনেক কিছু দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে যখন মনে হয় বোধহয় সবই দেখা হয়ে গেল, তখনই জীবন আরেকবার সপাটে চড় মেরে বুঝিয়ে দেয়, এখনও অনেক দেখা, অনেক শোনা, অনেক সওয়া বাকি।”
বন্ধুসম সহকারী পরিচালকের মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ পরমব্রত বলছেন, “এভাবে বিদায় জানানোটা বড় কঠিন দীপঙ্কর। তোমার নামটা যে সাতসকালে অ্যালার্মের মতো জ্বলজ্বল করে উঠতো ফোনের পর্দায়, সেটাকে হঠাৎ মুছে ফেলি কি করে বলো তো!”
