বিঘাপ্রতি উৎপাদন মাত্র ৬ থেকে ৮ মণ। তবে বাজারদর সাধারণ ধানের দ্বিগুণেরও বেশি। আর্থিক লাভ অনেক। এদিকে জিআই ট্যাগও পেয়েছে কালো নুনিয়া ধান। তাতেই কৃষকরা ঝুঁকছেন এই ধান চাষের দিকে। উত্তরবঙ্গের কালচিনি ব্লকে হাতির হানায় ফসল নষ্ট হওয়া নতুন কিছু নয়। আর্থিক লোকসানও হয়। তাতেই কালচিনি ব্লকের চা-বলয় ও বনবস্তি অধ্যুষিত এলাকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে ‘প্রিন্স অফ রাইস’ নামে পরিচিত কালো নুনিয়া ধান চাষ।
কালো নুনিয়া ধান স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য পরিচিত। কালচিনি ব্লকের লতাবাড়ি, সাতালি, মেন্দাবাড়ির মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় গত বারের থেকে এবারে এই ধান বেশি চাষ হয়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, বিঘাপ্রতি সাধারণ ধানের উৎপাদন ১০ থেকে ১২ মণ। সেই তুলনায় কালো নুনিয়ার ফলন মাত্র ৬ থেকে ৮ মণ। তবে দাম আকাশ-পাতালের পার্থক্য। সাধারণ ধান প্রতি মণ বিক্রি হয় সাধারণত ৬০০ বা তার থেকে একটু বেশিতে। সেখানে কালো নুনিয়া ধানের দাম মণ প্রতি প্রায় ২,০০০ টাকা। অধিক লাভের আশায় কৃষকরা এই চাষ করছেন। তাঁরা আশাবাদীও।
কালচিনি ব্লকের বিশ্বনাথ পাড়ার এক কৃষক ঘনশ্যাম ছেত্রী বলেন, “হাতির তাণ্ডব রয়েছে। তবে কেউ চাষ ছেড়ে দেননি। গত কয়েক বছর ধরে আমি দুই থেকে তিন বিঘা জমিতে কালো নুনিয়া চাষ করছি। এই চাষ অনেকটা লাভজনক। তা জানার পরও পাশের জমিতেও এক কৃষক ভাই দুই বিঘা জমিতে এই ধানের চাষ শুরু করেছেন।” আরেক ছোটেলাল কুজুরের কথায়, “কালো নুনিয়া চালের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেজি প্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরেও এই চাল বিক্রি হয়।” এই ধানের চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। আগামীতে এই চাষ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
