৮ মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলছে যুদ্ধ। ইরান-আমেরিকা সংঘাতে ঝরেছে ভারতীয়দের প্রাণও। বুধবার সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, পশ্চিম এশিয়ায় এখনও পর্যন্ত যেভাবে সংঘাত চলছে সেটা নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। এই যুদ্ধে ভারতীয়দেরও মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাটা প্রকাশ করেছেন রণধীর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালায় ইজরায়েল এবং আমেরিকা। বিমানহানায় সেদিনই মৃত্যু হয় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য়ও প্রাণ হারান। মার্কিন মিসাইল আছড়ে পড়ে মিনাব শহরের এক বালিকা বিদ্যালয়েও। সেখানে দেড়শোরও বেশি ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ভয়ংকর সেই হামলার পর কেটে গিয়েছে আট মাস। যুদ্ধ থামাতে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানসূত্র এখনও অধরা। মাঝেসাঝে সংঘর্ষবিরতি হলেও মেয়াদ ফুরোতেই ফের একে অপরের উপর আক্রমণ শানাচ্ছে দুই পক্ষ।
এহেন পরিস্থিতিতে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র। বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যেভাবে সংঘর্ষ চলছে, সেই নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এখনও পর্যন্ত আমরা ২২ জন ভারতীয় নাগরিককে হারিয়েছি এই যুদ্ধের ফলে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই ছিলেন নাবিক।” রণধীর আরও বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে সবসময়। তাঁদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা সচেষ্ট।”
উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দিনই প্রথম ভারতীয়র মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছিল। তারপর ওমান উপকূলে বাণিজ্যতরীতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয় সেই আক্রমণে। বাণিজ্যতরী জিএফএস গ্যালাক্সিতে হামলায় নিখোঁজ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবরও জানা গিয়েছিল। আসলে একাধিক বিদেশি জাহাজে ভারতীয় নাবিকরা কাজ করেন। ওই বিদেশি জাহাজে থাকার জেরেই আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতীয় নাবিকদের। ইতিমধ্যেই নাবিকমৃত্যুর ইস্যুতে একাধিকবার কূটনৈতিক মহলে সুর চড়িয়েছে নয়াদিল্লি।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
