Hashtagintro

কলকাতা থেকে ফিরে ঘোর দুঃসময় ভিনির! প্রেমিকা ছেড়েছিলেন আগেই, এবার চার ম্যাচ খেলার নিষেধাজ্ঞা

কলকাতা থেকে ফেরার পর ঘোর দুঃসময় চলছে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের। ব্রাজিল ফুটবল তারকা একেবারেই ফর্মে নেই। বিতর্কে বিপর্যস্ত জীবন। ব্যক্তিগত জীবনেও ধাক্কা খেয়েছেন। আচমকাই ব্রেকআপ হয়েছে প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকার সঙ্গে। এবার চার ম্যাচের নির্বাসনের কবলে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় তারকা। আর সেই শাস্তি ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভিনি নিজে। তারকা ফুটবলারের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছেন রিয়ালের কোচ হোসে মোরিনহোও।

সোশাল মিডিয়ায় সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেও শাস্তি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভিনি। এই নির্বাসনের জেরে রোববার সেভিয়া তো বটেই আগামী ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে এল ক্লাসিকোতে খেলা হবে না তাঁর। রেসিং সান্তান্দার ও ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচেও নেই তিনি। বিশ্বকাপের পর অস্ত্রোপচার করে নিজের মুখাবয়ব বদলেছেন। এখন আর চেনাই যায় না ভিনিকে। ফুটবলেও একই অবস্থা। সেই গতি, স্কিল, ফিনিশিং অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে। একেবারেই গোলের মধ্যে নেই। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভিনিকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল। তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি। একটাও সফল ড্রিবল নেই। গোলের কাছে যেন খেই হারাচ্ছেন।

ক্লাব ফুটবলে ফিরেও একই অবস্থা। লা লিগায় রিয়ালের প্রথম একাদশে সুযোগই দেননি কোচ জোসে মোরিনহো। সেই জায়গায় ভিলারিয়ালের বিরুদ্ধে ম্যাচে রিয়াল কোচ খেলালেন নতুন উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্ডেকে। ৬২ মিনিটে তিনি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে নাটক বাকি ছিল। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ভিনি। ৭২ মিনিটে বাঁপ্রান্ত থেকে বাড়ানো বল পেয়ে গোল করেন। ফর্মে ফেরার আনন্দে সেলিব্রেশন শুরু করেন। মাঠে নেমে আনন্দে মাতেন মোরিনহো। কিন্তু রেফারি ‘ভার’-এর দ্বারস্থ হন। সেখানে দেখা যায়, গোল করার আগে ভিলারিয়ালের এক ফুটবলারের চুল ধরে টান মেরে ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখান রেফারি। মেজাজ হারিয়ে রেফারির দিকে তেড়ে যান। সতীর্থরা আটকে না দিলে হয়তো রেফারিকে আঘাত করে ফেলতেন। এই আগ্রাসী আচরণের জন্য শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেন।

রোমার বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৪-৩ গোলে হাড্ডাহাড্ডি জয়ের পর শাস্তির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রাজিলীয় তারকা। ভিনির কথায়, “শাস্তির কথা ঘোষণা করার জন্য ওদের কাছে গোটা দিনটাই ছিল। অথচ আমরা স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরেই আমাকে জানানো হল, লিগের চারটি ম্যাচে খেলতে পারব না।” চুল টানার মতো ঘটনার নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ২৬ বছরের তারকা আরও বলেন, “আমাদের কখনও এই বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়নি। লা লিগা ও রেফারিদের সংস্থার লোকজন নিয়ম বোঝাতে আসেন। কিন্তু এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে কখনও আলোচনা করেননি।”

এর পরেই আত্মপক্ষ সমর্থনে রিয়াল তারকার দাবি, “আমার জন্য লাল কার্ড ছিল, ব্যস। আমি কখনও অন্য কোনও খেলোয়াড়ের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণ করিনি। অথচ শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখতে হয় আমাকেই।” শাস্তি ঘোষণার সময় নিয়ে আরও সরব মোরিনহো। তিনি বলেন, “কমিটিকে প্রশ্ন করা উচিত, ওরা আজ সকালে বা কাল সকালে শাস্তির কথা ঘোষণা করল না কেন? রিয়াল মাদ্রিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলের ম্যাচের মাত্র দু’ঘণ্টা আগে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? ভুলে গেলে চলবে না, রিয়াল মাদ্রিদ একটি স্প্যানিশ ক্লাব। শাস্তির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কারণ এই সিদ্ধান্ত ভিনিসিয়াসের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে।”

কী কারণে চার ম্যাচের শাস্তি? শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির বক্তব্য, প্রতিপক্ষের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণের জন্য ভিনিসিয়াসকে দু’ম্যাচের নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি রেফারির সঙ্গে আগ্রাসী ভঙ্গিতে তর্ক করেছেন। এমনকী সতীর্থরা তাঁকে আটকাতে এগিয়ে আসে। এই ঘটনায় আরও দু’ম্যাচের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার ক্ষেত্রে বাধা নেই ভিনিসিয়াসের। রোমার বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশেও রেখেছিলেন মোরিনহো। আরবি লাইপজিগের বিরুদ্ধে ২১ অক্টোবর এবং ৪ নভেম্বর এইকের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন তিনি। নির্বাসনের কারণে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির আগে লা লিগার কোনও ম্যাচে খেলতে পারবেন না ভিনি। এখন দেখার, এই শাস্তির প্রভাব আগামী এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের উপর কতটা পড়ে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language