শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দিনভর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে কালীঘাট। মাঠে নেমে হাল ধরতে হয়েছে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুক্রবার রাতের উত্তেজনার ঘটনায় দু’টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। যার একটি নাম রয়েছে তৃণমূল সাংসদের। এই অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশকে চড় মারার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি দেখেই দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকিদেরও চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে অশান্তির ঘটনায় কালীঘাট থানার ওসির দিকে আঙুল তুলেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার ইস্তফার দাবি তোলেন অভিষেকের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। সূত্রের খবর, শনিবারই এই ঘটনায় কালীঘাট থানায় তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়। পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরে নাম রয়েছে অভিষেকেরও। অজ্ঞাত পরিচয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিষেকও। আবার অভিষেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বিজেপি কর্মী।
উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে জমায়েত করেন তাঁর অনুগামীরা। সেই সময় বিজেপির কিছু কর্মী সমর্থকরা কালীঠাকুর আনতে যাচ্ছিলেন বলে দাবি। তখনই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। চোর স্লোগান দেওয়া হয়, ছেঁড়া হয় অভিষেকের ব্যানার, কাটআউট। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের অনুগামীরা বাধা দিলে হাতাহাতি বাধে। পুলিশ এসে দু’পক্ষকেই সরিয়ে দেয়। এরপরই বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক। তাঁকে দেখতে পেয়ে ফের শুরু হয় স্লোগান। চলে পালটা স্লোগানও। ধীরে ধীরে ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাড়ে পুলিশের সংখ্যা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ির নিচে বসে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে বাড়ির ভিতরে যেতে বলে পুলিশ। অভিষেক যাননি। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়ান তিনি। অভিষেকের দাবি, পুলিশের সামনেই মারধর করা হয়েছে। পরে সকাল ৬টা নাগাদ বাড়িতে ঢোকেন তিনি।
এদিনের ঘটনার পর শনিবার দুপুরে অভিষেকের বাড়িতে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডি জোটে থাকায় প্রতিহিংসার বশে ইচ্ছাকৃতভাবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ তুলেছেন মমতা। অভিষেকের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন তিনি।
