বাংলা থেকে হাজার হাজার মাইল সুদূরে। তবু সুদূর নেদারল্যান্ডসে বাঙালিয়ানা বাঁচিয়ে রাখাই শুধু নয়, এক টুকরো ভারত গড়ে তোলার ভাবনাও। বিদেশের মাটিতে এবারও আয়োজিত হচ্ছে কালীপুজো। এবারও জোর প্রস্তুতি চলছে শ্যামা আরাধনার। শারদপ্রাতে দেশে ফেরা হয় না, বিদেশ বিভুঁইয়ে সপরিবারে থাকা মানুষজন নিজেরাই পুজোর আয়োজন শুরু করেছেন। নেদারল্যান্ডসের মাটিতে হইহই করে হচ্ছে দেবীর পুজো। ‘উচ্ছ্বাস’ নামে আয়োজকরা এই পুজোর আয়োজন করেন।
শিকড়ের টান, শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পুজোর ভাবনা। এমনই জানিয়েছেন প্রবাসী বাঙালিরা। চলতি বছর এই পুজো তৃতীয় বছরে পড়ল। এবারের পুজোর ভাবনা সর্বজনীন। কিন্তু কেন এই ভাবনা? ‘সর্বজনীন’ শব্দটিই উচ্ছ্বাসের মূল ভাবনাকে তুলে ধরে—এই উৎসব সকলের, এই উৎসব গড়ে ওঠে সকলের অংশগ্রহণে। দরজা খোলা থাকে সব্বার জন্য। সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে উদ্যোক্তাদের তরফে।

পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রবাসীরা শামিল হন সেখানে। কেবল বাঙালিরাই নয়, অন্যান্য ভাষাভাষীর প্রবাসীরাও সেখানে উপস্থিত হন। কালীপুজোর দিনগুলিতে একাধিক অনুষ্ঠানেও মেতে ওঠেন বাসিন্দারা। উদ্যোক্তাদের মতে, সর্বজনীনতা শুধু একটি নাম নয়, এটি এমন এক বিশ্বাস, যেখানে প্রত্যেকের জন্য জায়গা থাকলেই সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হয়। চলতি বছর নভেম্বরের ৭ ও ৮ তারিখে দীপাবলি ও কালীপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।

এবার এই পুজোর ভাবনা, সাজসজ্জায় থাকছে রাজস্থানের রঙিন ঐতিহ্য। এখানে পুজোয় উপস্থিত হলে দেখা যাবে, রাজস্থানের রঙিন শিল্পরীতি ও স্বতন্ত্র অলংকরণশৈলী। সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগ ও সম্মিলিত পরিশ্রমেই এই সাজসজ্জা তৈরি হয়। ২০২৪ সালে এই পুজোর থিম ছিল শিল্পী যামিনী রায়ের শিল্পভাবনা। মণ্ডপের সাজসজ্জায় দেখা গিয়েছিল শিল্পীর স্বতন্ত্র শিল্পশৈলী। তাঁর দৃঢ় রেখা, প্রকাশময় অবয়ব এবং ভারতীয় লোকশিল্পের সঙ্গে সংযোগ সাজসজ্জার ভাবনাকে প্রভাবিত করে। গত বছরের ভাবনা ছিল মহারাষ্ট্রের ওয়ারলি শিল্প। জ্যামিতিক অবয়ব, ছন্দময় নকশা এবং দৈনন্দিন জীবনের চিত্রায়ণের জন্য পরিচিত এই লোকশিল্প ভারতের লোকঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ভাষা তুলে ধরে। এবারও সাজসজ্জার কাজ দ্রুতগতি চলছে চরম ব্যস্ততায়।

এবারের পুজোতেও আয়োজনে খামতি রাখতে চাইছেন না আয়োজকরা। ৭ তারিখ দীপাবলির সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। থাকবে গান, নাচ, নৃত্যনাট্য, লাইভ ব্যান্ডের পরিবেশনা এবং ডিজে। প্রবাসীরাই অংশগ্রহণ করবেন ওই অনুষ্ঠানে। ভারতীয় ও বাঙালি সংস্কৃতিকেই বরাবর প্রাধান্য দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে। ৮ তারিখ কালীপুজো। সেদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন সেখানে উপস্থিত হন। ভোগ রান্না থেকে অন্যান্য কাজকর্মে মানুষজন হাত লাগান। প্রতিবারের মতো এবারও কলকাতার কুমোরটুলি থেকে দেবী প্রতিমা নেদারল্যান্ডস পৌঁছে গিয়েছে। দক্ষিণেশ্বরের মা কালীর আদলে অনুপ্রাণিত দেবীর মূর্তি। বেলজিয়াম থেকে এক দম্পতি পুজো করতে এসেছেন গত দু’বার। এবারও সেই দম্পতিই পুজো করবেন। প্রবাসী বাঙালিদের নতুন প্রজন্ম এই পুজোয় দায়িত্ব নিক। তেমনই চাইছেন উদ্যোক্তারা।
