রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের কার্যালয়ের উপর বিজেপি হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টলগুলির উপর হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাও দেখা গিয়েছে। সেই আবহে বিজেপি বিধায়কের প্রশংসায় সিপিএম নেতা। কালীপুজোর আবহে এই ঘটনায় জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের রাজনীতিতে। দুর্গাপুর পশ্চিমে এবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন লক্ষ্মণ ঘরুই। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের ইতিমধ্যেই মেয়াদ ইতিমধ্যেই পাঁচমাস অতিক্রান্ত। বিজেপি বিধায়ক ভালো কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর অধীর ঘোষ।
রাজনীতির ময়দানে বিজেপি ও সিপিএমের দীর্ঘদিনের মতাদর্শগত লড়াই রয়েছে। কিন্তু উৎসবের আঙিনায় যেন মিশে গেল রাজনৈতিক দূরত্ব। দুর্গাপুরে কালীপুজোর খুঁটিপুজোকে কেন্দ্র করে উঠে এল রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অন্য ছবি। বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুইয়ের কাজের প্রশংসায় এবার খোদ সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর। প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মাঠে জাঁকজমকপূর্ণভাবে কালীপুজোর আয়োজন করতে চলেছে ক্ষুদিরাম অ্যাথলেটিক ক্লাব। ইতিমধ্যেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই উপলক্ষেই আয়োজিত হয় পুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠান। ক্লাবের সভাপতি তথা দুর্গাপুরের প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর অধীর ঘোষের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুই।
আর এই অনুষ্ঠানেই দেখা গেল এক ভিন্ন রাজনৈতিক ছবি। দলীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাপিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন দুই ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ। বিধায়কের কাজের প্রশংসা শোনা গেল এদিন প্রাক্তন কাউন্সিলরের মুখে। এদিন অধীর ঘোষ বলেন, “বিধায়ক যেভাবে পুজো করেছেন, তার কোনও তুলনা হয় না। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। আমরাও সেই প্রশংসা করছি। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভালো কাজের প্রশংসা করতে কোনও দ্বিধা নেই। আমরাও ক্লাব থেকে ওদের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুইও মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “পুজোয় কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। উৎসব সকলের, তাই সেখানে রাজনীতির কোনও বিভাজন থাকা উচিত নয়। দুর্গাপুরের উন্নয়নের স্বার্থে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের সকলকেই স্বাগত।” তিনি আরও বলেন,”সিপিএমের মধ্যেও অনেক নেতা রয়েছেন, যাঁরা দুর্গাপুরের উন্নতি চান। তাঁরা এগিয়ে এলে তাঁদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।”
