৬০ বছর বয়সেও দৌড়ের ময়দানে একের পর এক নজির গড়ছেন মিলিন্দ সোমান। সম্প্রতি মাত্র ছ’দিনের ব্যবধানে দু’টি ফুল-ডিস্ট্যান্স আয়রনম্যান ট্রায়াথলন শেষ করেছেন অভিনেতা ও ফিটনেসপ্রেমী। ৩.৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিংয়ের পর ৪২.২ কিলোমিটার দৌড়। এতটা ধকল সামলেও দৌড়ের সময় জুতো তাঁর পছন্দ নয়। বরং অনেক সময় খালি পায়েই দৌড়তে দেখা যায় তাঁকে।
মিলিন্দের এই অভ্যাস নতুন করে নজর কেড়েছে ‘বিয়ারফুট রানিং’-এর দিকে। খালি পায়ে দৌড়নোর এই পদ্ধতিতে পায়ের সঙ্গে মাটির সরাসরি সংযোগ থাকে। তবে বিষয়টি শুধু জুতো খুলে দৌড় শুরু করার মতো সহজ নয়। কারণ খালি পায়ে দৌড়লে পায়ের নড়াচড়া, ভারসাম্য এবং পেশির উপর চাপ, সবই বদলে যায়।
পায়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া
কুশনযুক্ত জুতো পরে দৌড়লে অনেকের গোড়ালি আগে মাটিতে পড়ে। খালি পায়ে দৌড়নোর ক্ষেত্রে পায়ের মাঝের অংশ বা সামনের অংশ আগে মাটিতে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে পায়ের স্বাভাবিক মুভমেন্ট কিছুটা বজায় থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দৌড়ের সময় পদক্ষেপ ছোট ও দ্রুত হওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

পায়ের পেশিকে হতে হয় বেশি সক্রিয়
জুতো পায়ের পাতাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দেয়। খালি পায়ে দৌড়লে সেই অতিরিক্ত সাপোর্ট থাকে না। ফলে পায়ের পাতার ছোট ছোট পেশিগুলিকে বেশি সক্রিয় হতে হয়। ধীরে ধীরে অভ্যাস করলে পায়ের পেশির শক্তি ও নমনীয়তা বাড়তে পারে। পায়ের পাতার স্বাভাবিক নড়াচড়াও আরও ভালো হয়।
মাটির অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ
খালি পায়ে দৌড়লে পায়ের তলা সরাসরি মাটির সংস্পর্শে থাকে। রাস্তা বা মাঠের ধরন সম্পর্কে দ্রুত অনুভূতি পাওয়া যায়। শরীরের অবস্থান, ভারসাম্য এবং পায়ের চাপ সম্পর্কে মস্তিষ্কও বেশি তথ্য পায়। ফলে শরীরের সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে এই বাড়তি সেন্সরি ফিডব্যাক।

হাঁটুতে চাপ কমলেও অন্য জায়গায় বিপদ
এখানেই রয়েছে খালি পায়ে দৌড়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক। হাঁটুতে চাপ কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু তার বদলে কাফের পেশি, অ্যাকিলিস টেন্ডন এবং পায়ের সামনের অংশে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। দীর্ঘদিন জুতো পরে দৌড়ানোর পর হঠাৎ খালি পায়ে বেশি দৌড় শুরু করলে তাই পেশিতে টান বা টেন্ডনে চোটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
শুধু তাই নয়, মাটিতে থাকা কাচ, পাথর বা অন্য ধারালো বস্তুতে পায়ের তলা কেটে যেতে পারে। ফোসকা বা অন্য আঘাতের সম্ভাবনাও থাকে। শহরের কংক্রিটের রাস্তা বা পাথুরে ট্রেইলে তাই খালি পায়ে দৌড়ানো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

শুরুটা হোক একেবারে ধীরে
খালি পায়ে দৌড়ানোর ইচ্ছে থাকলে প্রথম দিনেই দীর্ঘ দৌড় নয়। ৫-১০ মিনিট হাঁটা বা হালকা জগিং দিয়ে শুরু করা ভালো। ঘাস, মসৃণ বালি বা রাবারাইজড ট্র্যাকের মতো নিরাপদ ও নরম জায়গা বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রথম দিকে হাঁটা ও দৌড় মিলিয়েও অনুশীলন করা যায়।
দূরত্ব বা সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো করা চলবে না। সপ্তাহে মোট সময় বা দূরত্ব ১০ শতাংশের বেশি না বাড়ানোই ভালো। প্রথম দিকে দীর্ঘ দৌড়ের জন্য কুশনযুক্ত জুতো ব্যবহার করা যেতে পারে। সরাসরি খালি পায়ে যাওয়ার আগে পাতলা সোলের মিনিমালিস্ট শু দিয়েও শরীরকে অভ্যস্ত করা সম্ভব।
পা ও পায়ের পেশি শক্তিশালী করতে স্ট্রেংথ ট্রেনিংও জরুরি। আর পায়ের পাতায়, কাফে বা অ্যাকিলিস টেন্ডনে তীব্র ব্যথা হলে দৌড় চালিয়ে যাওয়া নয়, সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।
যাঁদের পায়ের গঠনগত সমস্যা, স্ট্রাকচারাল আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিক পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির মতো কারণে পায়ের অনুভূতি কমে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খালি পায়ে দৌড়ানো উপযুক্ত নয়। তাই মিলিন্দ সোমানের মতো খালি পায়ে দৌড়ানোর অভ্যাস করতে চাইলে অনুকরণ নয়, নিজের শরীরের সক্ষমতা বুঝে ধীরে ধীরে এগোনোটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
