সকালে ঘুম থেকে উঠে আচমকাই গায়েব সাড়ে তিন বছরের এক শিশু। ঘর থেকে বারান্দা, পরিবারের লোকজন একেবারে দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেছেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না! ঘটনার দীর্ঘক্ষণ পর ছাদের ওপরে গিয়ে দেখা গেল জলের ট্যাঙ্কের ঢাকনা খোলা! আর তার ভিতরেই নিথর অবস্থায় ভেসে রয়েছে ফুটফুটে শিশুটির দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় বীরভূমের মাড়গ্রামের ইনতালা পাড়ায়। কীভাবে এই মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত শিশুর নাম তানভির শেখ। বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। শিশুটির বাবা হাসেম শেখ একজন পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারকে একটু সুখে রাখতে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। মাস দুয়েক আগেই আবার কাজের সূত্রে চেন্নাই পাড়ি দিয়েছিলেন হাসেম। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী খুশি বিবি এবং ছোট্ট তানভিরই থাকত। খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই বুকফাটা কান্না সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন হতভাগ্য বাবা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে আচমকাই খুদে তানভিরকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে হাঁকডাক ও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। দিনভর খোঁজাখুঁজির পর শেষমেশ সন্দেহবশত বাড়ির ছাদে উঠে জলের ট্যাঙ্কের কাছে যান তাঁরা। সেখানেই দেখেন, জলের ট্যাঙ্কের ঢাকলা খোলা। ভিতরে নজর রাখতেই একেবারে চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। দেখা যায়, তিনবছরের শিশুটির নিথর দেহ ভেসে রয়েছে। নিমেষেই আনন্দময় সংসার মুহূর্তে শ্মশানের নিস্তব্ধতায় তলিয়ে যায়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাড়গ্রাম থানার পুলিশ। তারা মৃত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। খেলতে খেলতে দুর্ঘটনাবশত শিশুটি জলের ট্যাঙ্কে পড়ে গেল, নাকি এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য কিংবা ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়।
