সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার জঙ্গি বুরহান ওয়ানিকে শহিদের মর্যাদা! জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়াড়ায় এক জনসভায় বুরহানকে ‘শহিদ’ বলে উল্লেখ করলেন মেহবুবা মুফতির দল পিডিপির শীর্ষ নেতা আবদুল কবির। তাঁর বক্তব্য ভাইরাল হলেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। ঘটনায় জেরে পিডিপি নেতা আবদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুরহানের প্রশংসা করে আবদুল বলেন, “যখন বুরহান ওয়ানি শহিদ হন, তখন বিজেপির নেতারা ক্ষতিপূরণ নিয়ে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় চর্চা। সংবাদমাধ্যমের তরফে ওই নেতাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি একজন জঙ্গিকে শহিদের সম্মান দিলেন? পালটা নিজের অবস্থানে অনড় থেকে আবদুল বলেন, “আমি কাকে কী বলব সেটা আমার পছন্দ। আমরা গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি। ফলে আমার যেটা ঠিক বলে মনে হয় তা স্বাধীনভাবে বলার অধিকার রয়েছে।”
দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুরহানের প্রশংসা করে আবদুল বলেন, “যখন বুরহান ওয়ানি শহিদ হন, তখন বিজেপির নেতারা ক্ষতিপূরণ নিয়ে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন।”
এদিকে একজন সন্ত্রাসীকে শহিদের সম্মান দেওয়ার ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ কাশ্মীরি পণ্ডিতরা। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘রুটস ইন কাশ্মীর’-এর মুখপাত্র অমিত রায়না বলেন, “একজন সন্ত্রাসী কমান্ডারকে শহিদের সম্মান দিয়ে উনি সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের ক্ষতে নুন ছেটাচ্ছেন।” ব্যাপক ক্ষুব্ধ বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের তরফে বলা হয়েছে, পিডিপি আসলে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে তোষণের রাজনীতি করছে। বিজেপি নেতা যুধবীর শেট্টি আবদুলের মন্তব্যকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যে সকল সৈনিক জীবন দিয়েছেন, পিডিপি নেতাদের তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এভাবে সন্ত্রাসীদের প্রশংসা করা কোনওভাবেই কাম্য নয়।”
উল্লেখ্য, হিজবুল মুজাহিদিনের পোস্টার বয় ছিল বুরহান ওয়ানি। জম্মু ও কাশ্মীরে লাগাতার ভারত বিরোধী ভাষণ। বেলাগাম সন্ত্রাস চালানোর ঘটনায় নাম উঠে এসেছিল এই জঙ্গির। একটা সময় সরকারের তরফে তার মাথার ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালে সেনার এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় বুরহানের।
