বিশ্বজুড়ে সংঘাত ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে জলভাগেও। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, সামুদ্রিক পরিকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলি সংঘাতের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট এবং লোহিত সাগরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা। এই আবহে দীর্ঘ উপকূলরেখা, বিশাল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক-জ্বালানি থাকা ভারতের কাছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার জলভাগে শত্রুদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে জলভাগ মুড়ে ফেলছে ভারতের যুদ্ধজাহাজ। নৌবাহিনীর পাল্লা ভারী করে যাত্রা শুরু করল ‘শ্রেয়স’।
জাহাজটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৮ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। শনিবার জিআরএসইর ডকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর ভাইস চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল অজয় কোচ্ছার। প্রায় ৪৫ দিন অন্তর একটি করে জাহাজ জলে নামানোর এই সাফল্যে জিআরএসই-র কর্মীদের অভিনন্দন জানালেন নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক।
মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য তৃতীয় অফশোর পেট্রল ভেসেল ‘শ্রেয়স’ জলে নামিয়ে নজির গড়ল গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)। জাহাজটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৮ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। শনিবার জিআরএসইর ডকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর ভাইস চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল অজয় কোচ্ছার। প্রায় ৪৫ দিন অন্তর একটি করে জাহাজ জলে নামানোর এই সাফল্যে জিআরএসই-র কর্মীদের অভিনন্দন জানালেন নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজয় কোচ্ছার বলেন, “এই সাফল্য জিআরএসই-র কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং ২৪ ঘণ্টা ধরে কাজ করার মানসিকতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ভারতের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গতি, ব্যাপ্তি ও সক্ষমতার পরিচয়।” তাঁর কথায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সমুদ্রে দীর্ঘসময় নজরদারি এবং নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে ৪২টিরও বেশি জাহাজ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি ১০টি বড় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৮টি জাহাজ ও সাবমেরিন এবং ১২৭টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যান আত্মনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় সক্ষম সামুদ্রিক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকারের প্রমাণ।
এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী প্রজন্মের অফশোর পেট্রল ভেসেলগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াবে। সামুদ্রিক নজরদারি, জলদস্যু দমন, বিপর্যয়ের সময় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই জাহাজগুলি। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের উপরেও বিশেষ জোর দেন ওই আধিকারিক। তিনি জানান, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে ৪২টিরও বেশি জাহাজ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি ১০টি বড় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৮টি জাহাজ ও সাবমেরিন এবং ১২৭টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যান আত্মনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় সক্ষম সামুদ্রিক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকারের প্রমাণ।
এই জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। প্রথমত, জাহাজ কমিশনিংয়ের দিন থেকেই যেন নির্ধারিত কাজ সম্পাদনের পূর্ণ সক্ষমতা থাকে। সে জন্য অস্ত্র, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নতুন জাহাজ নির্মাণের সময় আগের জাহাজগুলির অভিজ্ঞতা এবং দেশের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে তৈরি একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে। এখনও পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি জাহাজ সরবরাহ করেছে জিআরএসই। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে এই সংস্থা। মরিশাস ও সেশেলসের জন্য পেট্রল ভেসেল, গায়ানার জন্য পণ্যবাহী জাহাজ এবং বাংলাদেশের জন্য পেট্রল ক্রাফট নির্মাণের মাধ্যমে বিদেশেও দেশীয় জাহাজ নির্মাণের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে জিআরএসই। তবে জাহাজ জলে নামানোই শেষ নয়। এরপর জাহাজের বিভিন্ন সরঞ্জাম বসানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কমিশনিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একই পেশাদারিত্বের সঙ্গে জাহাজটির নির্মাণ সম্পূর্ণ করে নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন রূপে ‘শ্রেয়স’ জাহাজটির সরবরাহ ও কমিশনিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
