জুনিয়র অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে বিরাট সাফল্য বাংলার তিন অ্যাথলিটের। তিনজনই ভারতের প্রাক্তন পদকজয়ী ক্রীড়াবিদ সোমা বিশ্বাসের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রানাঘাটে নিজস্ব অ্যাকাডেমি চালিয়ে আসছেন অর্জুন প্রাপক ক্রীড়াবিদ। তবে এবার হাত ধরেছে ভদ্রেশ্বর গ্রুপ ও লালবাবা রাইস। তরুণ অ্যাথলিটদের আবাসিকদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ভদ্রেশ্বর গ্রুপের কর্ণধার পার্থ নন্দীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সোমা।
এবার চেন্নাইতে আয়োজিত হয়েছে জুনিয়র অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৪ ট্রায়াথলন বি-তে সোমা জিতেছে পিঙ্কি পাল। ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৪ ট্রায়াথলন বি-তে রুপো পেয়েছে সাধন ঘোষ। আর ব্রোঞ্জ পেয়েছে সায়ন মণ্ডল। তিনজনই ‘সোমা স্কুল অফ স্পোর্টস’-এর আবাসিক শিবিরের অংশ ছিল। জাতীয় প্রতিযোগিতার আগে তিনমাসের আবাসিক শিবির করেছিলেন সোমা। সেখান থেকে ১১জন প্রতিযোগী চেন্নাই যায়। আর পদক জেতে তিনজন। এই শিবিরের সমস্ত আর্থিক দায়ভার বহন করেছিল লালবাবা গ্রুপ।
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে সোমা বলছিলেন, “এরা অনেক ছোট থেকে আমার কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। নদিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে আমি ওদের খুঁজে নিয়ে এসেছি। আমি ২০০৯ থেকে অ্যাকাডেমি চালাচ্ছি। তবে এবার ভদ্রেশ্বর গ্রুপের সৌজন্যে আবাসিক শিবির করতে পেরেছিলাম। আমি তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখন জাতীয় প্রতিযোগিতায় যেতে হলে নিজেদের খরচ বহন করতে হয়। সেটা তো কম নয়। তার পুরোটা ওরা দায়িত্ব নিয়েছিল বলেই এত ভালো পারফরম্যান্স হয়েছে।”

এশিয়ান গেমসে দু’বার রুপো জিতেছেন সোমা। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন। ৪৮ বছর বয়সি প্রাক্তন অ্যাথলিট অলিম্পিকেও দেশের প্রতইনিধিত্ব করেছেন। এখন নিজের অভিজ্ঞতা উঠতি অ্যাথলিটদের শুনিয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে প্রচারমুখী নন। এখন পরিকল্পনা, সারাবছরের জন্য আবাসিক শিবির করার। যাতে সেখান থেকে আরও নতুন প্রতিভা উঠে আসে। তারা নিয়মমাফিক অনুশীলন করতে পারে, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো পায়, পুষ্টিকর খাদ্য থেকে বঞ্চিত না হয়। গোটা বাংলা থেকে পিঙ্কি, সাধনরা উঠে এসে ভবিষ্যতে অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
