আকাশে বাতাসে পুজোর গন্ধ। দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতেছে মায়ানগরী মুম্বইও। উৎসবের আবহে বরাত জোরে রক্ষা পেয়েছেন ‘বাগি’ অভিনেতা টাইগার শ্রফ। গাড়ি লক্ষ্য করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় বলেই খবর। ঘটনায় প্রাণে বাঁচলেও, শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত বশ গুরুতর। জুহু থানা এলাকায় এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নেমেই টাইগার শ্রফকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন শুটার।
রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে পুলিশের জালে অভিযুক্তরা। ধৃতদের মধ্যে দু’জন হরিয়ানার এবং একজন বিহারের বাসিন্দা। তিনজনই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। ট্রেনযাত্রার সময়ই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তদের। এদের মধ্যে দু’জনকে টাইগারের উপর হামলার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তাদের পালাতে সাহায্য করেছে তৃতীয় ব্যক্তি, সন্দেহ তদন্তকারীদের।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার সোনিপতের ১৭ বছর বয়সি এক নাবালক। বাকি দু’জন বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার সোনিপতের ১৮ বছর বয়সি রেহান। রোশন বর্তমানে মুম্বইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমে র্যাপিডো চালক হিসেবে কাজ করে। জানা যাচ্ছে, মুম্বই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থানের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (এজিটিএফ) এবং কোটা সিটি পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে যাত্রা করার সময়ই পাকড়া করে পুলিশ। অভিযুক্তদের প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তল্লাশি আরও জোরদার করে মুম্বই পুলিশ।
একটি ছবিতে দু’জনকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একজনের মাথায় আবার কালো টুপি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্য়ম সূত্রে খবর, হামলাকারীরা প্রশিক্ষিত শুটার বলেই তদন্তকারীদের সন্দেহ। হামলা চালানোর আগে অভিনেতার গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, টাইগার প্রতি রবিবার জুহুর ফুটবল মাঠে যেতেন সে বিষয়ে অবগত ছিলেন অভিযুক্তরা। সেই তথ্য কাজে লাগিয়েই মাঠ থেকে গাড়ি করে বেরোনোর সময় তাঁর উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়।
গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা পথেই পালিয়ে গিয়েছে বলেই অভিযোগ। এসভি রোড ধরে ভিলে পারলে ও আন্ধেরির দিকে এগিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরবাইকটি ফেলে রেখে ট্রেনে চেপে বোরিভলির দিকে রওনা দেয়। পুলিওশের চোখে ধুলো দিতে অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গুজরাতেও ঢুকে পড়েছিল।
