সামনেই দুর্গাপুজো। কিন্তু তার আগে টাকা চেয়ে বিপাকে মমতা তৃণমূল! অভিযোগ, আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার সুব্রত তালুকদারের কমিটির কাছে টাকা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এরফলে কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া আটকে আছে বলে দাবি কালীঘাট তৃণমূলের। এরপরেই আজ, সোমবার এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে আদালতে শুনানির আবেদন জানান মমতা তৃণমূলের আইনজীবী। যদিও সেই আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছুটির পরেই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।
অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয় পুলিশ। এই তিনটি অ্যাকাউন্টই বেসরকারি একটি ব্যাঙ্কে রয়েছে। এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। দৈনিক খরচ চালাতে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের অনুমতি দেন বিচারপতি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তবে অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার জন্য একজন বিশেষ অফিসার নিয়োগ করে দেওয়া হয়। নির্দেশে হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, লাগামহীন টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে তোলা যাবে না। এমনকী কোর্ট নিযুক্ত অফিসারই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও নির্দেশ ছিল হাই কোর্টের। আগামী বছর ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
যদিও এরমধ্যেই কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূলের লড়াইয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপরেই কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি খারিজের আবেদন জানানো হয়। এক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে সওয়াল ছিল, সর্বভারতীয় তৃণমূলের নামে নির্বাচন কমিশনের কোনও রাজনৈতিক দল নেই। প্রতীক নাম ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে। ফলে এই মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়। যদিও তা গ্রাহ্য করেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আগামী টাকা খরচের অধিকার আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে বলে জানায় হাই কোর্ট।
তবে এদিন হাই কোর্টে মমতা তৃণমূলের দাবি, উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে কি না স্পেশাল অফিসার জানতে চেয়েছেন। পুরো বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন রয়েছে।
