Hashtagintro

ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড ফতোয়া! তবু ‘কর্মী নিয়োগে প্রভাব পড়বে না’, কোন যুক্তিতে দাবি টিসিএসের?

পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পিইআরএম কর্মসূচি সাসপেন্ড করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর জেরে একাধিক ভারতীয় সংস্থার গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টাটা কনসালট্যন্সি সার্ভিসেসও (টিসিএস)। যদিও টিসিএস-এর দাবি, বিষয়টি তাদের কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত কৌশল কিংবা গ্রাহক সম্পর্কিত কার্যক্রমের ওপর কোনওরকম প্রভাব ফেলবে না। উলটে নতুন করে ১৫ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে জানিয়ে দিল ভারতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থা। যদিও সেই নিয়োগের সুবিধা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি মেনে স্থানীয়রাই।

শুক্রবার স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া এক নথিতে টিসিএস জানিয়েছে, গত দু’বছরে তাদের পিইআরএম আবেদনের সংখ্যা ছিল এক অঙ্কের ঘরে। ফলে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব তাদের ক্ষেত্রে সীমিতই থাকবে। আরও জানানো হয়েছে, বর্তমানে আমেরিকায় কর্মী নিয়োগ কৌশলটি প্রধানত স্থানীয় মেধার উপরেই নির্ভরশীল। পাশাপাশি ক্যাম্পাস থেকে কর্মী নিয়োগ, ৩১টি অফিস ও ডেলিভারি সেন্টারের মাধ্যমে দেশজুড়ে (আমেরিকায়) তাদের যে উপস্থিতি রয়েছে, তাও এই কৌশলকে সাহায্য করছে।

একথা বলে মার্কিন প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারতীয় সংস্থাটি। এই বিষয়ে তাদের বিবৃতি, “আমরা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বিষয়ক মার্কিন সরকারের ঘোষণাটি লক্ষ্য করেছি এবং (মার্কিন) শ্রম বিভাগের যেকোনও নির্দেশনা টিসিএস মেনে চলবে।” ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, “আমরা আগেই যেমনটা ঘোষণা করেছিলাম, স্থানীয় কর্মী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আগামী পাঁচ বছরে আমেরিকায় অতিরিক্ত ১৫,০০০ লোক নিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।” এর ফলে আদতে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কৌশলই বাজি মাত করতে চলেছে। কারণ আগামী পাঁচ বছরে টিসিএস মার্কিন মুলুকের স্থানীয় কর্মীবাহিনী সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসন মোট আটটি সংস্থার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থাগুলি। পাশাপাশি ৯টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হয়েছে। এই জোড়া পদক্ষেপের ফলে আমেরিকায় বসবাসকারী বিদেশি প্রযুক্তিবিদেরা সমস্যায় পড়তে চলেছেন। স্বাভাবিক ভাবে সমস্যায় পড়বেন ভারতীয় কর্মীরা। স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাসের ক্ষেত্রে অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে। রেহাই পাবেন না পড়ুয়ারাও।

এই বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেন, “আমি নিশ্চিত যে এখানে উপস্থিত সকলে বুঝতে পারছেন কী খেলা চলছে। দেশের বাইরে থেকে কার্যত চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ধরনের চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের নিয়ে আসার ফলে আমেরিকার কর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। আর কর্পোরেশন হিসাবে আপনারা আমেরিকান কর্মীদের মজুরি কমিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন। সমস্যা হল, এমন সব লোক দিয়ে আমেরিকার লোকদের প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে যাদের আমেরিকায় থাকার যোগ্যতাই নেই।”

Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin India (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language