হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে শুধু ওষুধ নয়, সচেতন অভ্যাসই আসল দাওয়াই। আর এই সহজ সত্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে-তে শহর কলকাতায় আয়োজিত হল এক বিশেষ ওয়াকাথন। তিলাত্তমার বুকে পা মিলিয়ে হাঁটলেন চিকিৎসক থেকে সাধারণ পথচারী, নার্সিং স্টাফ থেকে স্কুলের ছাত্রছাত্রী— সকলেই। উদ্দেশ্য একটাই, হার্টকে ফিট রাখা।
প্রতিবছরই নিয়ম করে আসে ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে। ক্যালেন্ডারের দিন পালটে মানুষ আবার ফিরে যায় পুরনো অভ্যাসে। তবে এবার ক্যালরির হিসেব ভুলে সচেতনতার নতুন পাঠ দিল ‘ডিসান কার্ডিও কেয়ার ওয়াকাথন ২০২৬’। মঙ্গলবার সকালে ডিসান হাসপাতাল (Desun Hospital) চত্বর থেকে পদযাত্রার সূচনা হয়। বর্ণাঢ্য মিছিলের ফ্ল্যাগ অফ করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে অ্যাক্রোপলিস মল পর্যন্ত পৌঁছয় পদযাত্রা। চিকিৎসকদের বার্তা স্পষ্ট, হার্ট অ্যাটাক আটকানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের রোজকার জীবনযাত্রাতেই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিসান হাসপাতালের সিইও শাওলি দত্ত এবং কার্ডিওলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. সঞ্জীবকুমার পাত্র। সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অভীক কারক, ডা. বিউস সামন্ত, ডা. সৌমিজিৎ ঘোষ, ডা. ঝুলনকুমার জেনা, ডা. সুদেব মুখোপাধ্যায় ও ডা. কৌশিক পাল।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, এখন ব্যস্ত জীবনে অনেকেই শরীরচর্চার সময় পান না। থাবা বসাচ্ছে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ। ফলে কম বয়সেই বাড়ছে হার্টের সমস্যা। ডা. সঞ্জীবকুমার পাত্র জানান, নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যভ্যাস এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর শারীরিক পরীক্ষা করালে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। শাওলি দত্তের মতে, হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে না। এটি আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ডাক্তারদের এই উদ্যোগ সামাজিক বার্তায় রূপ নিল ওয়াকাথনের মাধ্যমে। শহরের বহু মানুষ এই পদযাত্রায় যোগ দিয়ে অঙ্গীকার করলেন সুস্থ জীবনযাপনের। পদযাত্রা শেষ হলেও মূল বার্তাটি রয়ে গেল— প্রতিদিনের একটু সচেতনতাই বাঁচিয়ে দিতে পারে মূল্যবান প্রাণ।