ইউনেসকোর নাম ভাঁড়িয়ে পুজো পাস বিক্রির মামলায় গ্রেপ্তার ইন্দ্রনীল সেনের ‘বন্ধু’, তথা মূল অভিযুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তারির পর থেকেই পলাতক ছিলেন দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ শুভ। তিনি ছিলেন ইন্দ্রনীলের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর সেক্রেটারি। সম্প্রতি হাই কোর্টে ধ্রুবজ্যোতির আগাম জামিনও খারিজ হয়। বুধবার রাতে মধ্য কলকাতার পোদ্দার কোর্টের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের ‘সিট’। এরপরেই এই বিষয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকা এরা চুরি করেছে। ডাকাতটা আগেই ধরা পড়েছে। এটা তো নিকৃষ্টতম চোর।
তদন্তে গোয়েন্দারা জেনেছেন, পুজোর পাস বিক্রি ছাড়াও টুরিস্ট লজ সংস্কার, বইমেলা, গানমেলা চলচ্চিত্র উৎসবের কর্মসূচির সরকারি টেন্ডার বেআইনিভাবে ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি কাটমানি নিয়ে ইন্দ্রনীল নিজে ও আত্মীয়দের সংস্থার মাধ্যমে নানা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন তিনি। মন্ত্রিত্বের সুবাদে মমতার ছায়াসঙ্গী এই মন্ত্রী নিজের ঘনিষ্ঠ নানা সংস্থাকে টেন্ডারের বরাত দিতেন। কোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দুর্নীতি চক্রে যুক্ত তিনজনের গোপন জবানবন্দি নিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ মাস আর্ট সোসাইটি, গিডি ক্রিয়েশন, থার্ড আই ক্রিয়েশন ছাড়াও রূপকার সংস্থা টেন্ডার পেত। মেলা-উৎসবের স্টল, ইভেন্টের টেন্ডারের বরাত পেত গিডি ক্রিয়েশন। একটি পর্বে ৫৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার টেন্ডার পায় জিডি। ৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা গিয়েছে থার্ড আই ক্রিয়েশনে। যদিও নিয়ম মেনে এই সংস্থার ইভেন্ট করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
অন্য দু’টি সংস্থাকে পৃথক খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার টেন্ডার দেন তিনি। থার্ড আই ক্রিয়েশন টেন্ডার পায় ৩৬ কোটি ৯ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। গিডি থেকে সরাসরি ইন্দ্রনীলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। রূপকার নামের সংস্থা পায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার টেন্ডার। বরাতের বিনিময়ে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্টে কাটমানির টাকা গিয়েছে, অভিযোগ। গিডি থেকে ৪.৫ লাখ ও থার্ড আইয়ের ৬৬ লাখ টাকা গিয়েছে মাস আর্টে। আবার গার্ড আই থেকে ২২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা গিয়েছে ইন্দ্রনীলের মেয়ের অ্যাকাউন্টে। ২০টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। টেন্ডারের আরও বিপুল কাটমানির লেনদেনের তথ্য আগামীতে জানা যাবে বলে আদালতে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
