বিগত কয়েক দশক ধরে থিমের পুজো পুজো শুরু হয়েছে এখানে। কিন্তু সেভাবে কোনদিনও উদ্বোধনের চল ছিল না। এবার আমতার বিজেপির বিধায়ক অমিত সামন্তর উদ্যোগে দুর্গাপুজোর মতো ইডেনের ধাঁচে খালনায় লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধন হল। সেখানে ড্রোনের সাহায্যে আলোর রোশনাই হাঁ করে দেখল গোটা গ্রাম। এখানকার লক্ষ্মীর গ্রামের ইতিহাস, পুজোর বৈশিষ্ট্য, এমনকি আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের নানা বৈশিষ্ট্য, কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির ইতিহাস সহ নানা ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, “রাজ্য সরকার যেভাবে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন রাজ্যের এবং দেশের মানুষের কাছে, তেমনই আমতার ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ লক্ষ্মীপুজো এবং আমতা বিধানসভাকেও মানুষের কাছে তুলে ধরা হল রাজ্য সরকারের অনুকরণে। যেভাবে তারা দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ইডেন গার্ডেনে করেছিল।” এখানে ২৬ টি অনুমোদিত লক্ষীপুজো হয়। এছাড়া অসংখ্য ছোটখাটো লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয় গোটা গ্রামজুড়ে। বাড়িতে বাড়িতেও লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠেন খালনার মানুষ। লক্ষ্মীপুজোর জন্য বিখ্যাত হওয়ায় খালনা ‘লক্ষ্মীর গ্রাম’ বলেই পরিচিত। কয়েক দশক ধরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই পুজোতেও উদ্যোক্তারা থিমের মণ্ডপ করা শুরু করেছেন।
খালনা কোহিনুর ক্লাবের উদ্যোগে হওয়া লক্ষ্মীপুজোয় এবারের থিম ‘শিবাঙ্গন’। তিন মাস ধরে এখানে মণ্ডপ তৈরির কাজ করছেন ক্লাবের শিল্পীরা। পশ্চিম খালনা রাজবংশীপাড়া বারোয়ারি লক্ষ্মী পুজো কমিটি এবার একটু অন্য ধরনের থিম করেছে। তাদের থিম ‘নট্য কোম্পানি’। মন্ডপের ভিতর তৈরি করা হয়েছে নাটকের মঞ্চের আদলে। সেখানে থাকছে নটী বিনোদিনীর বিভিন্ন কাহিনী। থাকছে ঘন্টা, বিশাল কেটলি, লাউড স্পিকার, হ্যাজাক। তবলা, হারমোনিয়াম যেসব বাদ্যযন্ত্র প্রয়োজন হয় নাটকে, সেই সবই থাকছে মন্ডপে। মঞ্চে বাজবে নাটকের সময় বাজানো গান এবং বাজনা। কৃষ্ণরাইতলা লক্ষ্মীপুজো কমিটির এবারের থিম “কল্পোদ্যান”। খড়িকাটি সহ নানা জিনিস দিয়ে ফুল এবং উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ধনকারী জিনিসপত্র সেখানে রাখা হয়েছে। এখানকার প্রতিমাও অলংকারে সজ্জিত হন। খালনা মিতালি সংঘ তাদের থিম করেছে রামমন্দির। সবমিলিয়ে দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ধনদেবীর আরাধনা খুশির হাওয়া খালনার ‘লক্ষ্মী’ গ্রামে।
পাশাপাশি, খালনার লক্মীপুজোকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা রয়েছে প্রশাসনের। দুর্গাপুজোতে নির্দেশ ছিল ডিজে বাজানো যাবে না, একই নির্দেশ রয়েছে লক্ষ্মী পুজোতেও। খালনার লক্ষ্মী পুজোয় সেই নির্দেশ অমান্য করে ডিজে লাগানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি মণ্ডপে। খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে সেই ডিজে খুলে দেয়। প্রশাসনের তরফে হুঁশিয়ারি, আবার যদি লাগানো হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের যথাযথ পাহারা থাকবে। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য দুর্গাবাহিনীর মহিলা পুলিশও সেখানে উপস্থিত থাকবে। এছাড়া মেডিকেল টিম, দমকল সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা থাকবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের করা হবে।
