খনির ২০০ ফুট নীচে থমকে গেল ডুলি! আটকে গেলেন ১২ শ্রমিক! ঘটনার পর চার ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সেখানেই গিয়েছেন এলাকার বিধায়ক জীতেন্দ্র তিওয়ারি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কোলিয়ারিতে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই খনির কাছাকাছি পৌঁছেছেন স্থানীয়রা। উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষায় খনির ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা।
অন্যান্য দিনের মতো আজ, সোমবারও ওই খনিকে কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। শ্রমিকরা নীচে নেমে কাজ করছিলেন। সন্ধের পর খবর আসে, ডুলি করে উপরে ওঠার সময় সেটি আটকে যায়। ডুলিতেই আটকে পড়েন ১২ জন শ্রমিক। শ্রমিকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে খনি কর্তৃপক্ষ। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে শ্রমিকরা আটকে থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফের প্রশ্নের মুখে খনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ। প্রাথমিক সূত্রের খবর, খনির ভিতরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ডুলিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় এই বিপত্তি।

ঘটনার পর ৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে উপরে থাকা অন্যদের কথা হয়েছে বলে খবর। আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পানীয় জল ও খাবার পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের উপরে নিরাপদে নিয়ে আসার জন্য জোরকদমে কাজ চলছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। যদিও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। এই ঘটনায় ফের সামনে এসেছে খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। সহকর্মীদের অভিযোগ, কুমারডিহি কোলিয়ারিতে মাঝেমধ্যেই ডুলি নিয়ে এমন বিপত্তি ঘটে। কখনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুলি আটকে যায়! আবার কখনও ডুলির দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।
বারবার এমন হলেও কেন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না? তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিকদের একাংশ। অভিযোগ, খনির ভিতরে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খনি আধিকারিক বলেন, “যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে এই সমস্যা হয়েছে। শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে জোরকদমে।” পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জীতেন্দ্র তিওয়ারি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে।
