Hashtagintro

‘নিজেকে আমেরিকান হিরোদের মতো লাগছে’, কলার তুলে বললেন পুজোর গানের ভাইরাল স্টার ‘ইনফ্রা’ রোহিত

এক গানে তিনি ভাইরাল। ‘হই হই করব বলে কোমর দোলে’– ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্টোরি, রিলস, ইউটিউব– সমস্ত প্ল্যাটফর্ম ছেয়ে গিয়েছে রোহিত সাহার এই গানে। জনপ্রিয় ইউটিউবারকে বেশি মানুষ চেনেন ‘ইনফ্রা’ নামে। অথচ যখন ‘দুগ্গা মা আসছে’ গানটি মুক্তি পেয়েছিল রোহিত নিজেও ভাবেননি এমন ঘটবে। মেরেকেটে ১০ হাজার রিলস হলেই তিনি খুশি হয়ে যেতেন। রবিবার পর্যন্ত ফেসবুকে ৫ লক্ষেরও বেশি, ইনস্টাগ্রামে ৪ লাখ প্লাস, সব মিলিয়ে প্রায় তিন মিলিয়ন অতিক্রান্ত রিলস! সেই প্রেক্ষিতেই ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর মুখোমুখি ইনফ্রা ওরফে রোহিত সাহা।

আন্দাজ করেছিলেন এই সাফল্য? উত্তরে বললেন, “না, সত্যি বলতে আমি এর আগেও অনেক গান করেছি। এখনও গান করার চেষ্টা করছি। এর আগেও কোনও গান জনপ্রিয় হবে বলে মনে হয়নি। এবং এরপরেও জনপ্রিয় হবে বলে ভাবি না। এটার ক্ষেত্রেও তেমনই ভেবেছিলাম। মানুষের ভালো লেগেছে, এটা অনেক আনন্দের বিষয়। তবে আমি কোনও আশা রাখছি না।” গানের কথা, সুর, কন্ঠ, রোহিতের নিজেরই। নামকরণ ‘দুগ্গা মা আসছে’র নেপথ্যে তাঁর মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। আর গানটা লিখেছিলেন তৎকালীন প্রেমিকাকে উৎসর্গ করেই। বিটেক নিয়ে পড়াশোনা রোহিতের। বেসরকারি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এখন বছর সাতাশের ছেলেটি। সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সপ্তাহান্তে গানবাজনা করেন তিনি। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বসেন। নানারকম গান বানানো তাঁর প্যাশন। এই মুহূর্তেও একটি অ্যালবামের ওপর কাজ করছেন, যা এরপরে আসবে।

নিজেকে আমেরিকান হিরোদের মতো লাগছে (হাসি)। স্পাইডারম্যানের সুখ্যাতি করতে করতে যেমন, পিটার পার্কারের সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যায় মানুষ। ভালো লাগছে।

সাড়া শহরজুড়ে প্যান্ডেলে, মেট্রোয়, মোবাইলে রোহিতের গান বাজছে। অথচ লোকজন তাঁকে তেমন চেনে না। কেমন অনুভূতি? রোহিত বলছেন, “অদ্ভুত লাগছে! হয়তো আমার গলাটা শুনছে বা ব্যবহার করছে মানুষ অথচ আমার সামনে দিয়ে ফোন স্ক্রল করতে করতে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাকে চেনে না। নিজেকে আমেরিকান হিরোদের মতো লাগছে (হাসি)। স্পাইডারম্যানের সুখ্যাতি করতে করতে যেমন, পিটার পার্কারের সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যায় মানুষ। ভালো লাগছে। আবার নিজেকে জাহিরও করতে চাই না। যে, বস, এটা তো আমি করেছি। মজার লাগছে। একইসঙ্গে থ্রিলিং এক্সপেরিয়েন্স।”

ভবিষ্যতে যদি কোনও পরিচালক বা সাউন্ড প্রোডিউসার মনে করেন আমার কণ্ঠ বা কম্পোজিশনের ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তাহলে অবশ্যই কাজ করব।

পরবর্তীকালে সিনেমা-সিরিজে গান করার স্বপ্ন দেখেন। তবে এখনও সুযোগ পাননি। বললেন, ‘প্লেব্যাক করার স্বপ্ন দেখি। যদিও আমি যে ধরনের গান করি ওখানে প্লেব্যাকের থেকে সোলো অ্যালবাম করার সুযোগ বেশি থাকে। কারণ সিনেমায় যে ধরনের ছক মেনে গান বানানো হয় আমার ওই ছকে গান করা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি কোনও পরিচালক বা সাউন্ড প্রোডিউসার মনে করেন আমার কণ্ঠ বা কম্পোজিশনের ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তাহলে অবশ্যই কাজ করব। গানই তো করতে এসেছি।’

“হ্যাঁ, আমি প্রেম করি। প্রেম ভাঙে, আবার হয়…।”

এরপরে হয়তো আরও বেশি শ্রোতা চিনবেন রোহিতকে। নিজেকে আগামী দিনে কীভাবে দেখতে চান? সেলফি তুলতে এলে বেশি খুশি হবেন, নাকি শুধুই নিজের গান আরও ছড়িয়ে গেলে? তার স্পষ্ট উত্তর, “দ্বিতীয়টা অবশ্যই। সেলফি তুলতে এলে আনন্দ যে হয় না, তা নয়। তবে গানটা চললে বেশি খুশি হব। তাই চাই আমার গান বেঁচে থাকুক অনেকদিন ধরে। সেলফি না তুললেও হবে কানে কানে আমার গান থাকুক।” রোহিত কোনওদিন গান শেখেননি। বলা যায় স্বশিক্ষিত। অনলাইনে বিখ্যাত শিল্পীদের গান থেকে একটু একটু করে শিখেছেন। তাঁর বাড়িতে রয়েছেন মা আর বাবা।

শিল্পী মানুষ প্রেম করেন না? জিজ্ঞেস করতে তাঁর অকপট জবাব, “হ্যাঁ, আমি প্রেম করি। প্রেম ভাঙে, আবার হয় (হাসি)।” তাঁর গান বাঁধা, সুর করার পদ্ধতি কিছুটা অন্য ধরনের। একদম কথ্য ভাষায় তাঁর সব গান। প্রত্যেকটা গানের কথা, সুর, কন্ঠ নিজেরই। যেমন ‘দুগ্গা মা আসছে’র আগে ‘অচিন পাহাড়’, ‘ধীরে’, ‘কল্পনা’, ‘কথা জমে গেছে’র মতো গান সৃষ্টি করেছেন তিনি। এই পুজো তাঁর কাছে খুব স্পেশাল হয়ে রইল। শুরুর দিনগুলোর ট্রোলিং এখন অতীত। স্বপ্ন দেখেন আরও বেশি শ্রোতাদের কাছে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়ার।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language