দেবীপক্ষ শুরু হতে এখনও খানিকটা সময় বাকি। সর্বত্র পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। ব্যতিক্রম বারাসত। সেখানে এখন থেকেই কালীপুজো নিয়ে মাতামাতি। কালীপুজোর মণ্ডপে শিল্পের চমকের অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা। আসলে বারাসতে প্রথমবার কালীপুজোর মণ্ডপসজ্জায় হাত দিচ্ছেন শিল্পী ভবতোষ সুতার। টাকি রোডের শিমুলতলার শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্রের পুজোয় ভিডিও প্রক্ষেপণ এবং প্রাকৃতিক শব্দের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে অভিনব আবহ। আর বারাসতে ভবতোষের এই প্রথম কাজের নেপথ্যে রয়েছেন পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সুবীর শীল।
দুর্গাপুজোর মণ্ডপসজ্জায় বেশ কয়েক বছর ধরে একের পর এক নতুন পরীক্ষায় মেতেছেন ভবতোষ সুতার। কিন্তু বারাসতে কালীপুজোর কাজ তাঁর কাছে তুলনামূলক নতুন পরিসর। এর আগে রাজারহাটে একটি কালীপুজোয় কাজ করেছিলেন তিনি। বারাসতে এই প্রথম। শিল্পীর চোখে পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, আসলে সামাজিক উৎসব। সেই উৎসবে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করাই তাঁর শিল্পভাবনার অন্যতম লক্ষ্য।

ভবতোষের তৈরি মণ্ডপে কোনও একটি উপাদান আলাদা করে চোখে পড়বে না। এটাই তার বিশেষত্ব। মণ্ডপে ঢুকলেই একসঙ্গে অনুভব করা যাবে গোটা পরিবেশটিকে। থাকবে কাইনেটিক মোশন, জল ও ভিডিও প্রক্ষেপণ। তার সঙ্গে শব্দের বিশেষ আয়োজন। মণ্ডপে বসানো হচ্ছে প্রায় ৫০টি স্পিকার। সেখানে কোনও রেকর্ড করা গান বা কৃত্রিম শব্দ বাজবে না। মণ্ডপের পরিবেশ থেকেই উঠে আসা প্রাকৃতিক শব্দ স্পিকারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করে তুলবে সেই আবহ।ভবতোষ সুতারের কথায়, ‘‘মণ্ডপে ঢুকলে তৈরি হবে এক ধরনের শব্দকল্প।”

এবারে ভবতোষের তৈরি মণ্ডপে কোনও একটি উপাদান আলাদা করে চোখে পড়বে না। এটাই তার বিশেষত্ব। মণ্ডপে ঢুকলেই একসঙ্গে অনুভব করা যাবে গোটা পরিবেশটিকে। থাকবে কাইনেটিক মোশন, জল ও ভিডিও প্রক্ষেপণ। তার সঙ্গে শব্দের বিশেষ আয়োজন। মণ্ডপে বসানো হচ্ছে প্রায় ৫০টি স্পিকার। সেখানে কোনও রেকর্ড করা গান বা কৃত্রিম শব্দ বাজবে না। মণ্ডপের পরিবেশ থেকেই উঠে আসা প্রাকৃতিক শব্দ স্পিকারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করে তুলবে সেই আবহ। ভবতোষ সুতারের কথায়, ‘‘মণ্ডপে ঢুকলে তৈরি হবে এক ধরনের শব্দকল্প।”
শব্দ নিয়ে এই পরীক্ষা অবশ্য ভবতোষের কাছে একেবারে নতুন নয়। আগে এমন ভাবনার নকশা করেছেন তিনি। তবে বারাসতে সেটাই আরও পরিণত করে তুলতে চাইছেন। পুজো কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে প্রযুক্তি ও শিল্পের এই মেলবন্ধন তাই এবারের বড় পরীক্ষা। শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্রের এবছরের কালীপ্রতিমাতেও থাকছে চমক। এর আগে নিজে কালী প্রতিমা তৈরি করেননি ভবতোষ। মণ্ডপের ভাবনার সঙ্গে প্রতিমার থাকবে সরাসরি যোগ। বারাসতে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবতোষ বলেন, ‘‘বারাসতে এই প্রথম। পরবর্তীতে আরও অনেক শিল্পী এখানে আসবেন এবং বারাসতের কালীপুজোয় অন্য মাত্রা যোগ হবে। থিমে সরাসরি কোনও সামাজিক বার্তা নেই। বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনই এবারের ভাবনার অন্যতম ভিত্তি।”

এই পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সুবীর শীল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত সহায়ক হিসেবেও পরিচিত তিনি। তাঁর উদ্যোগেই বারাসতের কালীপুজোয় প্রথমবার যুক্ত হলেন ভবতোষ। সুবীরবাবুর কথায়, ‘‘দুর্গাপুজো বিশ্বমানের শিল্পের জায়গায় পৌঁছেছে। বারাসাতের কালীপুজোকেও সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই ভবতোষ সুতারের মতো শিল্পীকে দিয়ে পুজোর করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এবার এই পুজোর ৫০ বছর। মূল ভাবনা কী? সেটা এখনও তুরুপের তাস হিসেবে গোপন রাখা হয়েছে। তাই মণ্ডপের দরজা খোলার আগে পর্যন্ত ভবতোষের এই শিল্পপরীক্ষার শেষ রূপটিই এখন বারাসতের পুজোপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে।
