৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল। গোয়ার বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নানা পাটেকরকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন নানা। অভিনেতার আচমকা মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে বেশ কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। এবার অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করল গোয়া পুলিশ। পানাজি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৯৪ ধারায় এই মামলা নথিভুক্ত করেছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরকে অচৈতন্য অবস্থায় গোয়ার ডোনা পাউলার ওশান পার্কের বাসভবন থেকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর নীতিন নায়েক। আপাতত পুলিশ এই বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বৃহস্পতিবার নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল?
তাঁর কথায়, “আমাদের যতটুকু মনে পড়ছে, রাত ২:৩০টে নাগাদ বন্ধুকে মেসেজ করে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন যে তিনি সুস্থবোধ করছেন না। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় তাঁর বন্ধু মেসেজটি দেখতে পাননি। তাই পরে নানাকে ফোন করেন। এরপর ভোর ৪টে নাগাদ তিনি পাটেকরের বাড়িতে যান। ততক্ষণে অভিনেতার শরীর ঘামতে শুরু করেছিল এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিচ্ছিল। তাই দেরি না করে তড়িঘড়ি তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়। কিন্তু অভিনেতা ধীরে ধীরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন দেখে বাড়ির পরিচারককে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

চিকিৎসক জানান, “হাসপাতাল থেকে আপৎকালীন একটি মেডিক্যাল টিম নানা পাটেকরের বাড়িতে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা পৌঁছনোর আগেই অভিনেতা পুরোপুরি অসাড় হয়ে পড়েছিলেন। এরপরই তাঁকে সিপিআর দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় ভোর ৪টে ২০ নাগাদ অভিনেতাকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসার পরও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ আর সিপিআর দেওয়া হয়। তবে এত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নানা পাটেকরকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং ভোর ৫টা ২০ নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”
