জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে শাসকদলের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। ‘সংসদ চলো’ অভিযানের দিন বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের তীব্র নিন্দা করে এক ভিডিওবার্তা ভাগ করে নিয়েছিলেন প্রবীণ অভিনেতা। সেসময়েই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ নাসিরুদ্দিন বলেছিলেন, “একজন অশিক্ষিত শাসক চাইবেন গোটা দেশ যেন তাঁর মতোই অশিক্ষিত, অবিবেচক, অক্ষম এবং ব্যর্থ হয়ে ওঠে।” সেই প্রেক্ষিতেই এবার বলিউড সতীর্থর উদ্দেশে পালটা তোপ দাগলেন জাভেদ আখতার।
দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে ‘ব্যর্থ, অশিক্ষিত’ বলায় নাসিরুদ্দিন শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন জাভেদ আখতার।

নাসিরুদ্দিন বরাবরই গেরুয়া শিবির বিরোধী। বিগত একদশকে এযাবৎকাল একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হতে দেখা গিয়েছে বামমনস্ক অভিনেতাকে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির পড়ুয়া আন্দোলনের সময়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফুঁসে উঠেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ‘মৌন’ বলিউডকে তোপ দেগে ‘আজ্ঞাকারী কুকুর’ বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি তিনি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, “যখন ওঁদের বিবেক নীরব থাকতে বলবে তখন ওঁরা চুপ থাকবে। প্রবাদ আছে, একটা কুকুরের মুখে যখন হাড় থাকে তখন তো সে ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। হাড়টা মুখ থেকে পড়ে গেলে বা সেই হাড়টা যতক্ষণ না দাঁত ভেঙে দিচ্ছে ততক্ষণ সে মুখ বন্ধ রাখবে।” প্রবীণ অভিনেতার এহেন মন্তব্য নিয়ে কম চর্চা হয়নি। পালটা তোপ দেগেছিলেন কঙ্গনা রানাউতও। এবার দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে ‘ব্যর্থ, অশিক্ষিত’ বলায় নাসিরুদ্দিন শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন জাভেদ আখতার।
“উনি একজন মাঝবয়সি রাগী লোক, তাই এভাবেই কথা বলেন। তাছাড়া এটা নাসির সাহেবের ব্যক্তিগত মতামত…”

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে বর্ষীয়ান গীতিকারের মন্তব্য, “এটা কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বলেছেন কি না, সেটা আমি জানি না। নাসির সাহেব নেতা হতে চান কি না, তাও আমি বলতে পারব না। তবে আমার মনে হয়, এই কথাগুলো আরও অনেক মার্জিত ভাষায় বলা যেত।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। নাসিরুদ্দিন শাহকে খোঁচা দিয়ে জাভেদ এও যোগ করলেন যে, “উনি একজন মাঝবয়সি রাগী লোক, তাই এভাবেই কথা বলেন। তাছাড়া এটা নাসির সাহেবের ব্যক্তিগত মতামত, তাই এবিষয়ে আমি আর কী-ই বা বলতে পারি?”
