Hashtagintro

প্রক্রিয়াগত ত্রুটি, ঋতব্রত-সহ ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের পদ বাতিলের আবেদন খারিজ স্পিকারের

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের দলত্যাগের অভিযোগে বিধায়ক পদ খারিজের আবেদনে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে। এই কারণ দেখিয়ে তা খারিজ করলেন বিধানসভার স্পিকার। তবে অভিযোগের মূল বিষয় নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন রথীন্দ্রনাথ বসু। একইসঙ্গে আবেদনকারীকে আইন ও নির্ধারিত বিধি মেনে নতুন করে পিটিশন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৮তম অধিবেশনের স্পিকারের নির্দেশে দেখা যাচ্ছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সংবিধানের দশম তফসিলের অধীনে দলত্যাগের অভিযোগে ১০ বিধায়ককে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার আবেদন করেছিলেন স্পিকারের কাছে। ছাব্বিশের ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, সাবিনা ইয়াসমিনরা। কিন্তু ঘাসফুল প্রতীকে ভোটে জিতে এভাবে শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় কালীঘাট তৃণমূল রুষ্ট হয়। দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন জানান স্পিকারের কাছে। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি না হয়ে তা ঝুলে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আজ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে এনিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হতো। কিন্তু শোভনদেবের সেই আবেদনে ত্রুটি থাকায় তা খারিজ করলেন স্পিকার। 

জানা গিয়েছে, শোভনদেবের মূল আবেদনটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, সেগুলি যথাযথ হলেও তার সঙ্গে থাকা সংযুক্ত নথিগুলি মূল পিটিশনের মতো করে পরীক্ষা করা দেখা হয়নি। অথচ মেম্বারস অফ দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল লেজিস্লেটিভ অ্যাসেম্বলি (ডিসকোয়ালিফিকেশন অন গ্রাউন্ডস অফ ডিফেকশন) অনুযায়ী পিটিশনের সঙ্গে থাকা নথিগুলির প্রতিটি পাতায় স্বাক্ষরিত এবং পিটিশনের মতো একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়া বাধ্যতামূলক।

বিধানসভা স্পিকারের পর্যবেক্ষণ, সংযুক্ত নথিতে শুধু স্বাক্ষর থাকলেই আইনের শর্ত পূরণ হয় না। মূল আবেদনের মতো সবকটি নথিই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সেই বাধ্যতামূলক পদ্ধতি পূরণ না হওয়ায় আবেদনটি বিধিসম্মত হয়নি। তাই তা খারিজ করা হল। ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের মধ্যে অন্যতম সাবিনা ইয়াসমিনের আইনজীবী সুমিতাভ চক্রবর্তী জানান, শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দশটি আবেদনের শুনানি একসঙ্গে করা হলেও প্রতিটির ক্ষেত্রে পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। স্পিকার এই আপত্তি খারিজ করে দশটি আবেদন একসঙ্গে শুনানির সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রতিটি পিটিশনের বিষয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানান। 

স্পিকার উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালের নিয়মে এমন কোনও বিধান নেই যার মাধ্যমে এই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ আবেদন ফেরত দিয়ে আবেদনকারীকে ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যায়। ফলে ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের বিরুদ্ধে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদন খারিজ করা হয়েছে। তবে আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, স্পিকার স্পষ্ট করেছেন, এই খারিজ দলত্যাগের অভিযোগের গুরুত্বের উপর কোনও সিদ্ধান্ত নয়। অর্থাৎ এই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা দলত্যাগের অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সে বিষয়ে স্পিকার কোনও মতামত দেননি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আইন মেনে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে নতুন করে আবেদন দাখিলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। 

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language