Hashtagintro

প্রতিরক্ষায় পাহাড়প্রমাণ বরাদ্দ, বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার! তবু হাউথিদের মারে কেন নাস্তানাবুদ সৌদি?

একদিকে যেমন প্রতিরক্ষায় বিপুল বরাদ্দ। তেমনই অস্ত্রভাণ্ডারে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান থেকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সঙ্গে দক্ষ সেনাবাহিনী। কিন্তু তারপরেও ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের আক্রমণে নাস্তানাবুদ সৌদি আরব। গত শনিবার রিয়াধ বিমানবন্দরে হাউথি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। আহত ৩০০। জানা যাচ্ছে, গত এক দশকে তেলসমৃদ্ধ এই দেশে চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা এটি। বলে রাখা ভালো, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে সৌদি। কিন্তু তা-ও হাউথিদের সামলাতে কেন হিমশিম খাচ্ছে রিয়াধ?

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ৬.৫ শতাংশ ব্যায় করে সৌদি। শুধু তাই নয়, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশ থেকে বিপুল অর্থে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামও কেনে তারা। সৌদির অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে ‘এফ-১৫ যুদ্ধবিমান’, ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’, ‘প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি। তবুও হাউথিদের পরাস্ত করতে পারছে না রিয়াধ। এর নেপথ্য়ে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদির ভৌগোলিক আয়তন দেশটির কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে হাউথিদের হাত থেকে সমস্ত জায়গা সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রতিরক্ষা খাতে সৌদির বার্ষিক বরাদ্দ প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার। ছবি: এএফপি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হাউথিদের শক্তি অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে বহু শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন। সূত্রের খবর, গোষ্ঠীটির কাছে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলির পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার। হাউথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে ‘প্যালেস্টাইন-২’ এবং ‘তুফানে’র মতো ক্ষেপণাস্ত্র। অন্যদিকে, হাউথিরা গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী। ফলে সংঘাত শুধু অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে লড়াইয়ের কৌশলও। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের পাশাপাশি টিকে থাকার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র সৌদির উপর বিভিন্ন রকম চাপও সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বার্ষিক প্রতিরক্ষা খরচ যেখানে প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে হাউথিদের সস্তায় ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, মাইন জোগান দেয় ইরান, হেজবোল্লা। অর্থাৎ, স্বল্প টাকা ব্যায় করে সৌদির বুকে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে তারা।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সৌদির রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল হাউথি। এই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। ভয়ংকর সেই হামলার ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইসলামের দুটি পবিত্র তীর্থস্থানে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাত্রীরা। পর মুহূর্তে ব্যাপক বিস্ফোরণ হয়। বিরাট উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি। বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। ফুটেজে ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়তেও দেখা যায়। সেই হামলায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবমিলিয়ে ১৩ মৃত্যুর পাশাপাশি হামলায় আরও ৩৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। যাদের অনেকেই ভারতীয়।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language