Hashtagintro

প্রোটিয়াভূমের দোকান থেকে সরল স্যান্ডপেপার, অজিদের ‘জোচ্চুরি’ নিয়ে সতর্ক সম্প্রচারকারী চ্যানেল, কেন?

৮ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া। তার আগে পুরনো ক্ষতে খোঁচা দিয়ে প্যাট কামিন্সদের সতর্ক করল সম্প্রচারকারী চ্যানেল ‘সুপারস্পোর্ট’। ২০১৮ সালের কেপ টাউন টেস্টে বল বিকৃতি বিতর্কে জড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই লজ্জার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে তারা। এমনকী প্রোটিয়াভূমের দোকান থেকে সরানো হল স্যান্ডপেপার। 

তিন টেস্টের সিরিজের প্রোমোয় তারা বলেছে, ‘আমাদের ক্যামেরার নজর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ।’ মাঠে কোনও রকম অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না, এই বার্তাই দিতে চেয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থা। শুক্রবার শুরু হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। তার আগে সোশাল মিডিয়ায় সিরিজের প্রোমো প্রকাশ করেছে ‘সুপারস্পোর্ট’। তাতেই ৮ বছর আগের বল বিকৃতি বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত খোঁচা দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটমহলের একাংশের ধারণা, অতীতের সেই বিতর্ক মনে করিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলীয় শিবিরের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে সম্প্রচারকারী সংস্থা।

এখানেই শেষ নয়, কুখ্যাত বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিকে সরাসরি কটাক্ষ করে একটি দোকানের তাক থেকে স্যান্ডপেপার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ওই দোকানে স্যান্ডপেপার পাওয়া যাবে না। এ কথা ঘোষণা করেছে পিক এন পে হাইপারমার্কেট। ২০১৮ সালে কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস টেস্টে বল বিকৃতি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফিল্ডিং করার সময় শিরীষ কাগজ দিয়ে বলের পালিশ নষ্ট করতে দেখা গিয়েছিল ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে। মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনে ধরা পড়েছিল সেই দৃশ্য। বলের আকৃতি বদলে রিভার্স সুইং পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন পাঁচ উইকেট হাতে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ২৯৪ রানে এগিয়ে ছিল।

বিষয়টি নজরে আসতেই অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন কোচ ড্যারেন লেম্যান দ্বাদশ ব্যক্তি পিটার হ্যান্ডসকম্বকে মাঠে পাঠিয়ে সতীর্থদের সতর্ক করেন। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন স্টিভ স্মিথ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শুধু সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদেরই নয়, গোটা অস্ট্রেলীয় দলের ক্রিকেটীয় সততা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বিতর্ক ‘স্যান্ডপেপারগেট’ নামে পরিচিতি পায়। পরে ব্যানক্রফট স্বীকারও করেন, তিনি সুযোগ বুঝে স্যান্ডপেপার দিয়ে বল বিকৃতির চেষ্টায় ছিলেন। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্মিথও মেনে নেন, যা হয়েছে তা খেলার নীতির বিরোধী। অর্থাৎ তাঁর জ্ঞানত অবস্থাতেই যে গোটা বিষয়টি ঘটেছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। গোটা ঘটনার নিন্দে করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। কড়া পদক্ষেপের দাবিও তোলেন। এরপরই কেপ টাউন টেস্টে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের পদ থেকে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে সরিয়ে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন স্মিথ। একই শাস্তি পেয়েছিলেন তৎকালীন সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে নির্বাসিত করা হয়েছিল ৯ মাসের জন্য।

৮ বছর পর পরিস্থিতি বদলেছে। সেবার অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক থাকা স্মিথ এখন দলের সহ-অধিনায়ক। সেই টেস্টে খেলা কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলেউড এবং নাথান লায়নও এবারের দলে রয়েছেন। আগের দলের সদস্য ম্যাথু রেনশও রয়েছেন এই সিরিজে। তবে বল বিকৃতি বিতর্কে অভিযুক্ত ব্যানক্রফট গত ছ’বছরেরও বেশি সময় ধরে টেস্ট দলে সুযোগ পাননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারও। তিন টেস্টের সিরিজের শেষ ম্যাচটি ২৭ অক্টোবর, সেই নিউল্যান্ডসেই। যে মাঠ এক সময় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল, সেখানেই সিরিজের শেষ টেস্ট। তার আগে ‘সুপারস্পোর্ট’-এর বার্তা, অস্ট্রেলিয়ার ‘জোচ্চুরি’ ধরতে তাদের নজর থাকবে ক্যামেরার।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language