Hashtagintro

ফুটবলে উজ্জ্বল হোক ভারতের নাম, কিশোরদের মাঠমুখী করতে অভিনব পুজো ভাবনা হালদারবাগানে

ফুটবলের নিজস্ব জগতটিই অত্যন্ত বৃহৎ। আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের মতো ছোট জায়গা থেকে যদি মেসি রোনাল্ডোর মতো ফুটবল খেলোয়াররা উঠে আসতে পারেন, সারা জগতের সামনে কিংবদন্তী হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে ভারত ১৪০ কোটির দেশ হয়েও কেন পিছিয়ে থাকবে এই দৌড়ে?

এমনটাই মনে করেন হালদারবাগান দুর্গোৎসব পূজা সমিতির উদ্যোক্তারা (Durga Puja 2026)। তাই আসন্ন দুর্গা পুজোয় তাঁদের থিম ‘আন্ডার ফিফটিন ওয়ার্ল্ডকাপ’। এ বছর ৮২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে তাদের পুজো। এই সমিতি দুঃস্থ শিশুদের ফুটবল খেলার ব্যবস্থা নিয়ে সর্বদাই সচেষ্ট। একাধিক সংস্থায় তাঁরা ফুটবল দান করেন। বছরের বিভিন্ন সময় তাদের ম্যাচ খেলার ব্যবস্থাপনা করে।

Durga Puja 2026: Haldarbaga’s Unique Puja Theme Aims to Inspire Young Footballers

বর্তমানে খেলাধুলোর প্রতি শিশুদের যে গভীর অনীহা, এবং মাঠে খেলার বিকল্প হিসেবে মোবাইলের প্রতি আসক্তি, তা তাঁদের ভাবিয়েছে বলে জানান পুজো উদ্যোক্তা। শিশুরা সর্বক্ষণই মোবাইলে ডুবে থাকেন। এই আসক্তি এতটাই বেড়ে যায় সময় সময় যে বাবা-মায়েদের রীতিমতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয় এর সঙ্গে মোকাবিলা করতে। কিন্তু শুধুমাত্র চিকিৎসা বা আলগা পরামর্শ যথেষ্ট নয়, ছোটদের বহির্মুখী করতে, ফুটবলের সঙ্গে তাদের সম্যক পরিচয় করানোর প্রয়োজন রয়েছে। আর সে দায়িত্বই এ বছর তুলে নিয়েছে হালদারবাগান দুর্গোৎসব পূজা সমিতি।

২১ অক্টোবর, ২০২৬, দুর্গা পুজোর একাদশী। ২২ তারিখ থেকেই শুরু হচ্ছে আন্ডার ফিফটিন ওয়ার্ল্ডকাপ। এই প্রথমবার ভারতের খেলোয়াড় দলের নাম নথিভুক্ত হয়েছে সে তালিকায়। ভারতবাসীকে সে সম্পর্কে অবগত করতে দুর্গা পুজোর মণ্ডপের চাইতে ভালো আর কিছু হতেই পারে না, মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁরা চান, শিশুরা এখানে কেবল ঠাকুর দেখতে আসবে, এমন নয়। এই মণ্ডপে এসে ফুটবল সম্পর্কে জানবে তারা, আগ্রহী হতে নতুন করে।

হালদারবাগান দুর্গোৎসব পূজা সমিতির থিমশিল্পী সুদীপ্ত মাইতি। মণ্ডপসজ্জার ছত্রে ছত্রে ফুটবলপ্রীতির নিদর্শন চোখে পড়ে। সমগ্র প্যান্ডেলটি প্রায় ২০০ ফুট বিস্তৃত। ২০০ ফিট দূরত্বে থাকা মেন গেটের দুপাশে হাফ ফুটবলের মতো আকৃতি তৈরি করা হয়েছে। সেকেন্ড ফেজে আবার একটি অর্ধেক ফুটবলের আকৃতি দেখতে পাওয়া যাবে। এরপরের অংশের পথ ঢেকে দেওয়া হবে সবুজ গালিচায়। সেই মাঠের দুপাশে ভিড় করে রয়েছে দর্শকরা। ইতস্তত খেলোয়াড়দেরও দেখতে পাওয়া যাবে।

মায়ের মণ্ডপটি ৫০ ফুট বিস্তৃত। এক অতিকায় ফুটবলের আদলে তৈরি করা হয়েছে সেটি। বিশাল ফুটবলের ভিতর প্রবেশ করলে দেখতে পাওয়া যাবে সনাতনী ধাঁচের মাতৃমূর্তিটি। এই মূর্তি নির্মাণ করেছেন পদ্মশ্রী ভাস্কর সনাতন রুদ্র পাল।

বিদেশ ও এদেশের বহু খেলোয়াড় অন্যান্য ব্যক্তিত্ব যারা ফুটবল খেলাকে জনগণের খেলা হয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতিকৃতি রাখা হবে এই মণ্ডপে। ১৯২০ সাল থেকে শুরু হয়েছে বর্তমান সময় পর্যন্ত বারবার বদলেছে ফুটবলের আকার, রং ও ধরন। ফুটবলের এই সামগ্রিক বিবর্তনের সাক্ষী হবে হালদারবাগান দুর্গোৎসব পূজা সমিতির পুজোমণ্ডপ। এমনকী আন্ডার ফিফটিন ওয়ার্ল্ড কাপটির একটি রেপ্লিকাও সাজানো থাকবে এই মণ্ডপে। পুজো কেবল আনন্দের নয়, শিক্ষনীয় হোক, বিশ্বাস ক্লাব কর্তৃপক্ষের।

Source: Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language