Hashtagintro

বইয়ের জন্য জনকল্লোল মহানগরীতে! বুলডোজারের জবাবে বই নিয়ে হাঁটলেন অসংখ্য মানুষ

বইয়ের স্টল ভাঙতে পাঠানো হয়েছিল বুলডোজার। আরএসএস-বিজেপি বাহিনী রাজ্যের সর্বত্র বামপন্থীদের বুক স্টলে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। বই ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া, পা দিয়ে মাড়িয়ে ফেলার ছবিটা দেখা গিয়েছিল সর্বত্র। বইয়ের উপর এহেন আক্রমণকে মেনে নেননি বহু মানুষ। শনিবার, তারই প্রতিবাদে কলেজ স্ট্রিট থেকে হাতে বই নিয়ে হাঁটলেন বহু মানুষ। ছিলেন সাহিত্যিক, লেখক, অভিনেতা, আইনজীবী ছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁদের একটাই কথা, বইয়ের উপর আক্রমণ আসলে চিন্তাশক্তির উপর হানা। প্রশ্নকে যারা ভয় পায়, তারা বই ছিঁড়ে ফেলে।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সংস্কৃতি ও বইপ্রেমী মানুষেরা একত্রিত হয়ে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, সমগ্র দেশ এর আগে এমন সুন্দর ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী মিছিল দেখেনি। এখানে কোনও ধরা বাঁধা স্লোগান বা চিৎকার নেই, কবিতা ও শিল্পের মাধ্যমেই এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হচ্ছে।’’ অন্যদিকে, কেবল বই মিছিলেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই হামলার জবাব দিতে প্রতিটা পাড়ায় পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ ‘বইয়ের হাট’ ও বই বিপণি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব।

দুর্গাপুজো বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার কলকাতার রাজপথে হলএক অভিনব মিছিল। শনিবার বিকেলে কলেজ স্কোয়ারে জমায়েত হয়ে এই প্রতিবাদী পদযাত্রাটি শুরু হয়। সাধারণ কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে এই মিছিলে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষের হাতে ছিল তাঁদের পছন্দের বই। বিশিষ্ট শিল্পী, অধ্যাপক এবং নাগরিক সমাজের একঝাঁক বুদ্ধিজীবীর আহ্বানে এই প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সুজন চক্রবর্তী ও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ বাম নেতারাও। প্রচলিত রাজনৈতিক মিছিলের মতো এই কর্মসূচিতে কোনও দলীয় পতাকা বা সমবেত স্লোগান ছিল না। পরিবর্তে বিভিন্ন টিফো, মনীষীদের ছবি, বইয়ের প্রচ্ছদ এবং প্ল্যাকার্ড হাতে সব বয়সের ও সর্বস্তরের বইপ্রেমী মানুষকে পা মেলাতে দেখা যায়।

৩১ অক্টোবর, শনিবার। কলকাতায় ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’ কর্মসুচিতে শামিল পবিত্র সরকার,জহর সরকার, সুজন চক্রবর্তীরা। ছবি: ফেসবুক

মিছিলে হাঁটতে হাঁটতেই পরিবেশিত হয় নানা প্রতিবাদী গান, কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, প্রাক্তন আমলা ও সাংসদ জহর সরকার, বর্ষীয়ান অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিছিলে অংশ নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সংস্কৃতি ও বইপ্রেমী মানুষেরা একত্রিত হয়ে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, সমগ্র দেশ এর আগে এমন সুন্দর ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী মিছিল দেখেনি। এখানে কোনও ধরা বাঁধা স্লোগান বা চিৎকার নেই, কবিতা ও শিল্পের মাধ্যমেই এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হচ্ছে।’’ অন্যদিকে, কেবল বই মিছিলেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই হামলার জবাব দিতে প্রতিটা পাড়ায় পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ ‘বইয়ের হাট’ ও বই বিপণি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব।

৩১ অক্টোবর, শনিবার। কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের জন্য হাঁটুন’ কর্মসুচি, ছবি: ফেসবুক

প্রসঙ্গত, বামেদের বইয়ের স্টলে হামলা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, “আমরা সবাই বইপ্রেমী, বই বিরোধী নই। কিন্তু আপনি পুষ্পাঞ্জলি দেবেন না, নবমীর আরতি করবেন না, সিঁদুর খেলবেন না, হাতে ডোর লাগাতে গেলে বলবেন, না না লাগাব না। টিকা লাগাতে গেলে বলবেন, না কপালে লাগাবেন না। গলায় তুলসী রাখবেন না। সনাতনী হিন্দুত্বের যে পরম্পরা রয়েছে, তার বিরোধিতা করবেন। তারপরে আপনি গিয়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে গিয়ে বইয়ের দোকান বানাবেন! এটা চলতে দেওয়া যায় না।”

Source: Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language