বাবা-মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি যে চোখের সামনে দেখতে হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি পরিবারের একমাত্র মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বারান্দায় বাবার ঝুলন্ত দেহ এবং ঘরের বিছানায় মায়ের নিথর শরীর দেখতে পায় সে। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের সংসারে নেমে আসে শোকের ছায়া। একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বসিরহাটে। কীভাবে মৃত্যু হল দু’জনের, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম সুদেব গোস্বামী (৬০) ও সোমা গোস্বামী (৫৫)। বসিরহাট পুরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সানাপুকুর এলাকায় তাদের বাড়ি। সুদেববাবু পেশায় মেডিক্যাল ঠিকাদার ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের মেয়ে প্রথমে বাড়ির বারান্দায় বাবাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এরপর ঘরের ভিতরে গিয়ে বিছানায় মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। দ্রুত ফোনে আত্মীয়দের খবর দেয় সে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। খবর দেওয়া হয় বসিরহাট থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনের দেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে সুদেববাবুর মৃত্যু আত্মহত্যা বলে অনুমান করা হলেও সোমাদেবীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি বিষাক্ত কোনও পদার্থ খেয়েছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সমস্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা এই মর্মান্তিক পরিণতির নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দু’জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, বাবা-মাকে হারিয়ে কার্যত দিশাহারা পরিবারের একমাত্র নাবালিকা মেয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সানাপুকুর এলাকায় শোকের ছায়া।
