রক্তের নেই কোনও ধর্ম। অসুস্থ সইফুলের জন্য সুরজের রক্ত উড়ে এল আকাশপথে। দেড় হাজার কিলোমিটার দূর থেকে। ক্যানিংয়ের বাসিন্দা বছর একাত্তরের সইফুল সর্দার ভর্তি কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে। ডা. কৌশিক সাহার অধীনে চিকিৎসা চলছে তাঁর। অত্যন্ত বিরল বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন সুরজ।
অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল রক্ত। কিন্তু সে রক্ত যে সে গ্রুপের নয়। অত্যন্ত বিরল বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত। ভারতে আনুমানিক প্রতি দশ হাজার জনে ১ জন বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায়। ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের গভর্নিং বডির সদস্য বিশ্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে “কুড়ি বাইশ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। এই বাইশজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্তের অধিকারী। কোনও প্রয়োজনে এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ বাড়ছে বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্তের প্রয়োজনীয়তা।”
সইফুল সর্দারের ক্ষেত্রে বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতে মস্তবড় ভূমিকা নেয় ‘লেট আস কেয়ার ফর ইউ’ সংগঠন। তারাই দায়িত্ব নিয়ে এই বিশেষ বিরল গ্রুপের রক্ত নিয়ে এসেছে পুণে থেকে। আকাশপথে উড়োজাহাজে এসেছে রক্ত। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনের জাতীয় সভাপতি বিশ্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিশেষ তাপমাত্রায় রক্ত নিয়ে আসতে হয় আকাশপথে। রক্ত আনার পর ফের তা একবার পরীক্ষা করে দেখা হয় রক্তের সম্পূর্ণ উপাদানগুলো নিখুত রয়েছে কি না।
উল্লেখ্য, এই বোম্বে ব্লাড গ্রুপ অত্যন্ত বিরল। রাজ্যে একটি সমীক্ষায় ৫৬ হাজার ৪৬৫ জনকে সমীক্ষা করে মাত্র ৬ জনের বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত পাওয়া গিয়েছিল। গ্রুপ বা রক্তের ধরন (ব্লাড গ্রুপ বা ব্লাড টাইপ) লোহিত রক্তকণিকায় (আরবিসি) অ্যান্টিজেনিক পদার্থের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে। তার উপর ভিত্তি করে রক্তের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। ঠিক হয়, কার রক্ত কাকে দেওয়া যাবে।
আমাদের পরিচিত প্রধানত আটটি গ্রুপের (এ, বি, ও, ইত্যাদির মতো) রক্তে কোনও না কোনও অ্যান্টিজেন থাকেই। কিন্তু এই বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন নেই, সবগুলোই অ্যান্টিবডি। তা ছাড়া, এই রক্তে কোনও অ্যান্টিজেন না থাকার ফলে অন্য কোনও গ্রুপের রক্ত প্রসেসিং করা সম্ভব নয়। শুধু মাত্র একজন ‘বম্বে ব্লাড গ্রুপ’ এর রক্তদাতার দেহ থেকেই ‘বম্বে ব্লাড গ্রুপ’ এর রোগী রক্ত গ্রহণ করতে পারেন।
