সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ সক্রিয় নন রবীন্দ্র জাডেজা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের একটি পোস্টের জবাব দিয়েছিলেন তিনি। তার পর দীর্ঘ বিরতি। এরই মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটে শেষ হয়েছে অজিত আগরকর-অধ্যায়। বোর্ডের তরফে নিশ্চিত হয়েছে, আর ভারতীয় দলের নির্বাচক প্রধান থাকছেন না তিনি। এরপর আবার সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় জাদেজা। যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বাঁহাতি স্পিনার! আর তাঁর তিন শব্দের মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
নতুন নির্বাচক প্রধান নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র চেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই বিজ্ঞপ্তি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে বোর্ড। তার নীচেই জাডেজার মন্তব্য, ‘আবেদনের প্রক্রিয়া কী?’ বিসিসিআইয়ের পোস্টেই অবশ্য নির্বাচক প্রধান হওয়ার যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় শর্তগুলি বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও জাদেজার এই মন্তব্যকে নিছক কৌতূহল বলে মানতে নারাজ অনেকেই। তাঁদের মতে, আগরকরকে উদ্দেশ্য করেই সম্ভবত এই ‘খোঁচা’ দিয়েছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার।
জাদেজা কি বোঝাতে চেয়েছেন, নির্বাচক প্রধান হওয়ার জন্য যে যোগ্যতাগুলি প্রয়োজন, তা না থাকা সত্ত্বেও আগরকর এত দিন সেই দায়িত্ব সামলেছেন? তাঁর মন্তব্যের মধ্যে সেই ইঙ্গিতই খুঁজে পাচ্ছেন কেউ কেউ। যদিও আগরকর এবং জাদেজা প্রকাশ্যে কখনও একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। তবে ভারতের টি-টোয়েন্টি দল থেকে জাদেজার অবসরের নেপথ্যে আগরকরের ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন অনেকে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। তাঁদের পরেই একই সিদ্ধান্তের কথা জানান জাদেজা। সেই সময় থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, তরুণদের নিয়ে নতুন টি-টোয়েন্টি দল গড়ার পরিকল্পনায় জাদেজার জায়গা আর দেখছিলেন না নির্বাচকেরা কি না।
এর পর ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে দলেও জায়গা হয়নি জাদেজার। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, তিনি এখনও খেলতে চান। তবে দল নির্বাচনের বিষয়টি তাঁর হাতে নেই। জাডেজার সেই মন্তব্যও অনেকের কাছে নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর অসন্তোষের ইঙ্গিত বলেই মনে হয়েছিল। আর সেই কারণেই আগরকরের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর এই এক লাইনের মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। তবে জাদেজা নিজে সরাসরি আগরকরের নাম নেননি। তাই মন্তব্য সত্যিই আগরকরকে লক্ষ্য করে করা কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
