বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হলেন কংগ্রেস সাংসদ আংগমচা বিমল আকইজাম। অধ্যাপকের চাকরি খোয়াতে হল তাঁকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে আভ্যন্তরীণ তদন্তের পর মণিপুর থেকে কংগ্রেসের এই সাংসদকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সন্তিশ্রী ডি পণ্ডিতের সই করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ইন্টারনাল কমিটি (আইসি) আংগমচা বিমল আকইজামের বিরুদ্ধে তদন্তের পর কঠোর শাস্তির সুপারিশ করেছিল। সমস্ত তথ্য ও কমিটির রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ইউজিসি রেফারেন্স এবং কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস বিধির ১১নম্বর ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি কার্যকর করা হল। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা জেএনইউ-র প্রাক্তন ওই অধ্যাপক।
জেএনইউ-র ১১ জন ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসির কাছে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের চারমাস পরও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।
জানা যাচ্ছে, গোটা ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। জেএনইউ-র ১১ জন ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসির কাছে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের চার মাস পরও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। এর জেরে গত মাসে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখায়। স্বচ্ছ তদন্তের দাবি সরব হন তাঁরা। গোটা ঘটনায় কংগ্রেস এনএসইউআই এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। ঘটনায় দিল্লি মহিলা কমিশনও সেপ্টেম্বর মাসে জেএনইউ-র কাছে রিপোর্ট তলব করে।
তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আকইজাম। তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগ তুলে কিছু চক্রান্তকারী তাঁর দুর্নাম করার চেষ্টা করছেন। তবে আভ্যন্তরীণ তদন্তের পর অবশেষে জেএনইউ-র চাকরি খোয়াতে হল আকইজামকে। প্রসঙ্গত, জেএনইউ-এর ‘স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস’-এর ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সোশ্যাল সিস্টেমস’-এর অধ্যাপক ছিলেন আকইজাম। পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মণিপুর থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে সাংসদ হন তিনি।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
