Hashtagintro

লাড্ডু নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড! বসিরহাটে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী-পুলিশ

পুজো মিটতে না মিটতেই লাড্ডু নিয়ে তুলকালাম। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের (Basirhat) টাউন হল লাগোয়া এলাকায়। বিশাল পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেয়। অভিযোগ, বসিরহাটের নতুন বাজারে বহুজাতিক সংস্থার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দোকান থেকে কেনা লাড্ডুর কয়েকটি প্যাকেটে ফাঙ্গাস ও মেয়াদ উত্তীর্ণের বিষয়টি নজরে আসে। ওই লাড্ডু খেয়ে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়।

বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে দোকানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিছুক্ষণের জন্য শহিদ দীনেশ মজুমদার রোডের নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকায় যানজট তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজয়া দশমী উপলক্ষে লাড্ডু বিতরণের জন্য হাড়োয়া বিজেপির পক্ষ থেকে আট পেটি লাড্ডু কেনা হয়েছিল। হাড়োয়ায় সেই লাড্ডু বিতরণের সময় কয়েকটি লাড্ডুতে ফাঙ্গাস দেখা যায় বলে অভিযোগ।

কিছু লাড্ডুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। ওই লাড্ডু খাওয়ার পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই বিজেপি নেতা-কর্মীরা বসিরহাটের নতুন বাজারে দোকানের মালিকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তা নিয়ে বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে দোকানের মালিক বলেন, “যারা আজকে অভিযোগ করতে এসেছে তারা মিষ্টিগুলি আমার কাছ থেকে নেয়নি। কোনো ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে হয় তো নিয়েছে। আমার এখান থেকে কোনরকম ফাঙ্গাস জমা বা মেয়াদ উত্তীর্ণ মিষ্টি বিক্রি করা হয় না।”

অন্যদিকে, পুজো শেষ হতেই খাদ্যসামগ্রীর গুণমান নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে খাদ্য দপ্তর। বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জের একাধিক দোকানে অভিযান চালান খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। মিষ্টির দোকান, তেলেভাজার দোকান, ফাস্টফুডের দোকান এবং বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে খাবারের গুণমান, রান্নায় ব্যবহৃত তেলের মান, খাবারে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং বৈধ ফুড লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক জয়দীপ দাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ এবং জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে হিঙ্গলগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ও বিডিও দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এই পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। খাবার তৈরিতে নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত তেল ব্যবহার, ভেজাল রং মেশানো কিংবা খাদ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কোনও দোকানে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বসিরহাটে একদিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ফাঙ্গাস পড়া লাড্ডু বিক্রির অভিযোগ, অন্যদিকে হিঙ্গলগঞ্জে খাদ্যদপ্তরের অভিযান পরপর এই ঘটনাগুলি ঘিরে খাবারের গুণমান ও সাধারণ মানুষের খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে লাড্ডুর গুণমান সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অসুস্থতার কারণ সরকারি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language