নাম তার এল নিনো। বহুদিন ধরেই যে আবহাওয়ার নানারকম খামখেয়ালিপনার নেপথ্যে। এবার ভয়াল চেহারা নিয়ে সে হয়ে উঠবে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’ (Super El Nino)। সতর্ক করল রাষ্ট্রসংঘ। জানিয়ে দিল, ১৯৫০ সালের পরবর্তী সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোর দেখা মিলতে চলেছে।
‘ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন’ জানিয়েছে, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এই এল নিনো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে বিপুল পরিমাণে জমা পড়া তাপ নির্গত হওয়ার ফলে পৃথিবীর বিরাট এক অংশে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। এই অবস্থাকে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’ বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।
ঠিক কী এই এল নিনো? প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পেরুর পাশে ভূপৃষ্ঠের উত্তপ্ত হওয়াকেই এল নিনো বলে। এল নিনোর ধাক্কায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বেড়ে যেতে পারে। মোটামুটি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর এল নিনোর প্রভাবে সারা বিশ্বের আবহাওয়াই প্রভাবিত হয়। এবার ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম’-এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, এল নিনো কেবলই একটা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সূচক মাত্র হয়ে থাকছে না। বরং তা এবার দেশের কৃষি, শক্তিক্ষেত্র, পরিবহণ, খাদ্য সংকটে প্রবল প্রভাব ফেলতে চলেছে। আগেই বলা হয়েছিল, এল নিনো এখনও তার সর্বোচ্চ আকার ধারণ করেনি। আশঙ্কা, নভেম্বর-ডিসেম্বরে তা সবচেয়ে ভয়াল আকার নিতে পারে।
আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউ পুরো পৃথিবীর একটি জলবায়ু মানচিত্র প্রকাশ করে দেখিয়েছেন যে, মানচিত্রের প্রায় পুরোটাই লাল রঙে ঢাকা। তিনি ‘এক্স’-এ আরও লিখেছেন, ‘শীতকালজুড়ে এল নিনো তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে সক্রিয় থাকবে এবং আমেরিকা ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্রই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।’ আগেই ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব নামের এক উদ্যোগের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামী ৬ মাসে এল নিনো সাড়ে চার লক্ষ মানুষকে ঠেলে দেবে মৃত্যুগহ্বরে! এবার রাষ্ট্রসংঘের সতর্কবার্তায় নতুন মাত্রা পেল আশঙ্কা।
