Hashtagintro

‘সাইফনিং’ পদ্ধতিতে হিমবাহ হ্রদের জলস্তর কমাল ভুটান, ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পরীক্ষামূলকভাবে ‘সাইফনিং’ পদ্ধতিতে হিমবাহ হ্রদের জলস্তর কমাতে সফল ‘ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি’। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সাফল্য হিমবাহ হ্রদের কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে বিধ্বংসী হড়পা বানের ঝুঁকি এড়াতে বড় পদক্ষেপ। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি’-র তরফে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক মাস ধরে প্রস্তুতির পর ১২ অক্টোবর, সোমবার বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে দেশের থোরথোর্মি হিমবাহ হ্রদে ‘পাইলট সাইফন প্রযুক্তি’ সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৪০০ মিটারেরও বেশি উঁচু লুনানায় এই পরীক্ষা হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে বিধ্বংসী হড়পা বানের ঝুঁকি কমাতে ভুটানের চলমান বড় পদক্ষেপ। কিন্তু কি সাইফনিং পদ্ধতি?

ভূগোলের গবেষক তথা চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ মধুসূদন কর্মকার জানান, সাইফন এমন একটি নলাকার যন্ত্র। যার সাহায্যে পাম্প অথবা বাহ্যিক শক্তি ব্যবহার না করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের প্রভাবে উঁচু জলাধার থেকে তরল পদার্থ নিচু জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়। এটি মূলত একটি ‘ইউ’ আকৃতির বাঁকানো নল। সাইফন সম্পূর্ণভাবে বায়ুমণ্ডলের চাপের উপর নির্ভর করে কাজ করে। তিনি বলেন, “ভুটানের অসাধারণ সাফল্য ভারত ও নেপালকে হিমবাহ হ্রদের বিপর্যয় থেকে আত্মরক্ষার পথ দেখাবে।”

সাইফনিং পদ্ধতিতে কমানো হচ্ছে জল।

‘ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি’ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুটানের ১৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের অন্যতম থরথর্মি হ্রদ, ফো ছু এবং পুনাৎসাংছু। এগুলো নদী অববাহিকার নিচের এলাকায় জনবসতি, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য বিপদের কারণ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাইফন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য এনসিএইচএম উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন সাইফন পাইপলাইন বসানো হয়েছে। চারপাশের ভঙ্গুর মোরাইন অর্থাৎ হিমবাহ হ্রদের কৃত্রিম বাঁধকে অক্ষত রেখে জলের স্তর নামিয়ে আনার জন্য সেটা ডিজাইন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় গত বছর গত বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর ভুটান সরকারের উদ্যোগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে থরথর্মি হ্রদের জল নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। লুনানায় ‘ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি’-র কারিগরি দল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language