সোনার শহর বলে এমনিতেই দুবাইয়ের একটা আলাদা নামডাক আছে। সেই শহরের বুকে পা রাখলেই চারপাশের চাকচিক্য চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। তবে এবার পর্যটকদের জন্য আরও বড় চমক নিয়ে আসছে এই আরব শহর। শুধু সোনা কেনা বা দেখার দিন শেষ। এবার নাকি সোনার উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো যাবে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। ২০২৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই দুবাইয়ের বুকেই খুলতে চলেছে বিশ্বের প্রথম এবং দীর্ঘতম ২৪ ক্যারেটের ‘গোল্ড ওয়াকওয়ে’।

দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক রশীদ আল হারমুদি সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন। আগামী দু’এক মাসের মধ্যেই এই অসাধারণ সোনালি পথ জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে এই ওয়াকওয়েটি ঠিক কতটা লম্বা কিংবা এটি তৈরি করতে ঠিক কত খরচ পড়েছে, তা নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি এখনও কিছুটা গোপনীয়তার আড়ালেই রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতেই দেইরা এলাকায় এই বিশেষ গোল্ড ডিস্ট্রিক্টটি চালু করা হয়। ব্যবসা আর পর্যটনকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসাই এদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এই এলাকায় এক হাজারের বেশি সোনা, রত্ন, প্রসাধনী, সুগন্ধির বিবিধ নামজাদা দোকান রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই এলাকায় পাইকারি সোনা ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বহুলাংশে বেড়েছে। আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ও অলঙ্কার প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনাও করছে দুবাই।

তবে এই স্বর্ণপথে হাঁটার চমকই শেষ কথা নয়। সম্প্রতি দুবাইয়ের ঝুলিতে জুড়েছে আরও এক বিশ্ব রেকর্ড। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই ‘ময়ূরা সহস্র’ নামের এক জোড়া বিশালাকার ঝুমকো বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ‘জয়অলুক্কাস জুয়েলারি’। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে এই ঝুমকো। ২২ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এই অলঙ্কারের ওজন ১৬.৫১৪ কিলোগ্রাম! ময়ূরের সৌন্দর্যের আদলে তৈরি এই অনন্য শিল্পকর্মটি বিক্রি করা হবে না। দুবাইয়ে আসা পর্যটকদের দেখার জন্যই এটি স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়া হবে।
তাই আপনি যদি সোনার মোড়ানো পথে হাঁটতে চান, তবে আপনার দুবাই সফর এবার আরও জমজমাট হতে চলেছে। বছরের শেষেই হয়তো এই খাঁটি সোনার চাদরে মোড়া রাস্তায় রাজকীয় ভঙ্গিতে হেঁটে নেওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবেন পর্যটকরা। নতুন বছরের ছুটিতে মরুদ্যানের এই সোনালি রহস্য চাক্ষুষ করতে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলতেই পারেন!
