দূরে কোথাও ঘুরতে গেলে কী পছন্দ করেন? ঝটিতি সফর? না কি, ধীরে, সুস্থে থেকে, জায়গাটিকে তিলে তিলে আবিষ্কার করাই আপনার কাছে ভ্রমণের সঠিক অর্থ? সংক্ষেপে যাকে বলা হয় ‘স্লো ট্রাভেল’ (Slow Travel)? সমাজমাধ্যম এবং প্রেরণা দালালের সৌজন্যে এই দ্বিতীয় বিষয়টিই বর্তমানে চর্চার কেন্দ্রে। বলা ভালো আগ্রহের, কৌতূহলের কেন্দ্রে।
বুঝিয়ে বলা যাক। প্রেরণা পেশায় একজন ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি ইনস্টাগ্রামে নানা ধরনের ভ্রমণ সংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করেন। সম্প্রতি তিনি লাদাখ ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি জায়গা ছিল স্টক। কাংড়ি পার্বত্য এলাকাস্থিত স্টক গ্রামটি লে থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রেরণা ভেবেছিলেন এখানে বেশি দিন থাকবেন না। একটু ঘুরেই চলে যাবেন।
কিন্তু ভাগ্যের ছিল অন্য পরিকল্পনা। হঠাৎই মত বদলে প্রেরণা লাদাখের একটি ব্যতিক্রমী জায়গায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই সিদ্ধান্তই তাঁর পরিচয় করায় ‘স্লো ট্রাভেল’-এর সঙ্গে। নিজের ইনস্টা ভিডিওয় প্রেরণা জানিয়েছেন, “লাদাখে আমি দু’মাস কাটিয়েছি। তার মধ্যে ১৫ দিনই আমার কেটেছে স্টক গ্রামের এক হোম স্টে-তে। অনেকেরই মনে হতে পারে, এত দিন কেন লাদাখে কাটালাম। অনেক কম সময়েই ঘুরে ফেলা যায়! কিন্তু আসল কথা হল, লাদাখে এসে আমি একটা গ্রামে বেশ কয়েকদিন থেকেছি। অনেক কিছু জেনেছি। এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে অমূল্য।”
প্রেরণার সংযোজন, “এই গ্রামে আসার আগে জানতামই না যে এখানে লাদাখের শেষ রাজার বাড়ি আছে। এখানে থাকার পর এক অচেনা লাদাখকে দেখেছি। জেনেছি। আমি এখন জানি, এখানকার সবচেয়ে কাছের রেশন দোকান কোথায়, কোথাও যাওয়ার জন্য সেরা রুট কোনটি, লাদাখি স্টাইলের মোমো কীভাবে বানানো যায়। এটাই হল স্লো ট্রাভেল এর সৌন্দর্য। ঝটিতি এলে এবং চলে গেলে, এ সব কিছুই জানতে পারতাম না। অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ হত না। এখান থেকে যাওয়ার সময় অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি।” তাঁর এই পোস্ট প্রচুর লাইক পেয়েছে সমাজমাধ্যমে। অনেকেই তাঁর ‘স্লো ট্রাভেল’কে সমর্থন করেছেন।
