বৃহস্পতিবার চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন নানা পাটেকর। অভিনেতার প্রয়াণে আসমুদ্রহিমাচলে যেমন বিষাদের সুর, তেমন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও শোকের ছায়া। কথায় বলে, শিল্পীরা দেশ-কাঁটাতারের উর্ধ্বে। দেশে দেশে যতই দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকুক না কেন, ভৌগোলিক সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পীরা বরাবরই সমাদৃত। ব্যতিক্রম নন নানা পাটেকরও। ভারতের পাশাপাশি পাকমুলুকেও তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। অতঃপর নানার প্রয়াণসংবাদ (Nana Patekar’s Death) আছড়ে পড়তেই সেদেশেও শোকের আবহ।
“নানা যেমন পর্দায়, তেমনই বাস্তব জীবনেও। আর একারণেই আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। অনেক কথাও বলতাম আমরা।…”
সেদেশের আমজনতার মতো নানা পাটেকরের মৃত্যুসংবাদ নাড়িয়ে দিয়েছে প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার বসিত আলিকেও। বিগত কয়েক দশক ধরে বসিতের সঙ্গে নানার সুসম্পর্ক। আত্মীয়তা, বললেও অত্যুক্তি হয় না। যে অভিনেতা কার্গিল যুদ্ধের সময়ে নিজের ফিল্মি কেরিয়ারের পরোয়া না করে ষাট দিন দেশের হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, সেই অভিনেতার মৃত্যুতেই কিনা চোখে জল পাক মুলুকের বাসিন্দাদের! আসলে ব্যক্তি নানা পাটেকর ছিলেন এমনই। সিনেমার পর্দায় যেমন বাস্তব মনস্তত্ত্বের পাঠ দিতেন, তেমনই মারকাটারি সংলাপে সাম্প্রদায়িকতার বীজ উপড়ে ফেলা বার্তা দিতেন। ঠিক যেমনটা ‘ক্রান্তিবীর’ ছবিতে নানার মুখে শোনা গিয়েছিল- ‘কৌন হিন্দু কা খুন হ্যায়, কৌন মুসলমান কা খুন হ্যায়?’ সংলাপটি। সেই অভিনেতার প্রয়াণে আজ পাক মুলুকেও যে শোকের রেশ, তেমনটাই জানিয়েছেন বসিত আলি। এক ভিডিও বার্তায় বলিউড অভিনেতার স্মৃতিচারণ করে প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার জানান, “নানা যেমন পর্দায়, তেমনই বাস্তব জীবনেও একই রকম থাকতেন। আর একারণেই আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। অনেক কথাও বলতাম আমরা। আমার মা যখন হাসপাতালে ভর্তি তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতেন আমার সঙ্গে। মায়ের খোঁজ নিতেন। এমনকী আমার মায়ের মৃত্যুর পরও বড় দাদার মতোই আমাকে সামলেছিলেন।” কীরকম?

“মায়ের মৃত্যুর পর নানা আমাকে নিজের যত্ন নিতে বলেছিলেন। একজন বড় ভাইয়ের মতো তিনি আমাদের যে ভালোবাসা দিয়েছেন,..”
স্মৃতিচারণ করে বসিত আলি বলেন, “মায়ের মৃত্যুর পর নানা আমাকে নিজের যত্ন নিতে বলেছিলেন। একজন বড় ভাইয়ের মতো তিনি আমাদের যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য! ওঁর সঙ্গে অনেক ঠাট্টাও করতাম। তরুণ বলে সম্বোধন করলেই বলতেন- ওসব বাদ দে, তুই যেমন বুড়ো হচ্ছিস, আমিও তাই। শুধু একটা কথাই বলব— ভারতে যেমন নানাজি’র ভক্ত ছিল, পাকিস্তানেও ঠিক তেমনই। পাকিস্তানের মানুষ নানাকে ভীষণ ভালোবাসে।” নানা পাটেকরের ছবি ভাগ করে নিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন পাক ক্রিকেটার উমর আকমলও। তাঁর মন্তব্য, “জীবনরেখায় নানা পাটেকর ইতি টেনেছেন ঠিকই, কিন্তু তার প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রয়ে যাবে। আপনাকে খুব মনে পড়বে স্যার।” দুই তারকার পোস্টেই পাক মুলুকের বাসিন্দারা শোকবার্তার ভিড়।
