বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ার বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হন নানা পাটেকর। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। ৪৫ মিনিট অক্লান্ত চেষ্টার পরও ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা। দিন চারেক আগেই গোয়ার এক অনুষ্ঠানে রীতিমতো নাচ-গানে আসর মাতিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ফুটন্ত বক্তৃতায় নশ্বর জীবনের কথা উল্লেখ করে জীবনদর্শনের এক অন্য ব্যকরণের পাঠ দিয়েছিলেন নানা। মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক ঘণ্টা। তবুও যেন ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থ থেকে অগণিত অনুরাগীরা এই দুঃসংবাদ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। নানা হীন ইন্ডাস্ট্রি কল্পনা করা যেন সত্যিই বিরাট চ্যালেঞ্জ। সহ অভিনেতার অকাল প্রয়াণে শ্রদ্ধার্ঘ্য শাহরুখ খান ও সলমন খানের।
১৯৯২ সালে ‘রাজু বান গ্যায়া জেন্টলম্যান’-এ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন শাহরুখ খান ও নানা পাটেকর। তিন দশকের অধিক সময় অতিক্রান্ত, আজও ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র অভিনেতার পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মনে আছে কিং খানের। শুটিং সেটের সেই স্মৃতিমেদুর দিনের কথা স্মরণ করে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য বলিউড বাদশার। ইনস্টগ্রামে সাদা কালো আবহে ছবি পোস্ট করে ফিরে গিয়েছেন সেই নয়ের দশকের নস্ট্যালজিয়ায়। গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা রেখেই হিরোসুলভ আচরণ না করে পুরোদস্তুর অভিনেতা হয়ে ওঠার লক্ষ্যে স্থির থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন নানা।
শাহরুখের স্মৃতিচারণা, ‘যেদিন প্রথম তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সঙ্গে একটা অস্বস্তিও হচ্ছিল। তাই তখন আমি বারবার চুলে হাত দিচ্ছিলাম। আমার হাত সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, হিরোর মতো চুল বানাস না। তুই অভিনেতা! হিরো হওয়ার নেশায় অভিনেতাকে হারিয়ে ফেলিস না।’ তাঁর স্বভাব সম্পর্কেও অনেকটাই ওয়াকিবহল ছিলেন শাহরুখ। সেই মর্মে অভিনেতার সংযোজন, “কখনও প্রশংসা করে মন জয় করার চেষ্টা করতেন না। সকলে যেটা শুনতে চাইতেন সেটা বলতেন না। বরং যা শোনা দরকার, সেটাই বলতেন। এটাই ছিলেন নানা। সোজাসাপ্টা, রুক্ষ অথচ সৎ। আর তাঁর ছিল অসম্ভব সুন্দর এক হাসি।”
View this post on Instagram
আরও লেখেন, ‘ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব এক একটা ধরন ছিল। প্রথমে বকতেন। কিন্তু, কিছুক্ষণ থাকার পরই বোঝা যেত আসলে এটাই তাঁর ভালোবাসা। আমাকে ভালোবাসতেন, আর আমিও তাঁকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার গুরু, শিক্ষক, সমালোচক এবং বন্ধু। নানা, আপনার হাসি, পাগলামি আর ভালোবাসা আর ব্যক্তিত্ব চিরকাল আমাদের সঙ্গে থেকে যাবে। আরও কিছু কথা বলার সময় পেলাম না। আরও একটা তর্ক-বিতর্ক, আরও এক কাপ চা আর ক্যারামের খেলা—ইশ, যদি আরেকবার হত! আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি আপনাকে ভীষণ মিস করব। আর আপনার কথাগুলো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হৃদয়ে গেঁথে রাখব।’
আত্মার শান্তি কামনা করে কিং খান লেখেন, ‘নানা, আপনার আত্মা শান্তিতে থাকুক। আল্লা আপনাকে আশীর্বাদ করুন। একজন অসাধারণ অভিনেতা এবং অপরাজেয় ক্যারাম চ্যাম্পিয়নকে পেয়ে স্বর্গ ধন্য হবে। ভালোবাসি আপনাকে, ভীষণ মিস করব! খুব তাড়াতাড়িই চলে গেলেন, আমার হিরো-অভিনেতা!’ নানা পাটেকরের অকাল প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন সলমন খানেরও। ‘খামোশি’তে নানা পাটেকরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন সলমন। সহ অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভাইজান। শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে নিজের অনুষ্ঠান স্থগিত করলেন সলমন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছ’টার সময় মুম্বইয়ে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তার সময়সূচী পিছিয়ে দেন ভাইজান।
