দৃঢ়, নির্ভীক জীবনদর্শনের সঙ্গে নানা পাটেকরের রসবোধও ছিল প্রশংসনীয়। অবিনশ্বর জীবন নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলেও কম ঠাট্টা করতেন না! বন্ধু অনুপম খেরও শোকবার্তায় সেকথা উল্লেখ করে বলেছেন, “শ্রদ্ধার্ঘ্যের কথা শুনলেই ও হয়তো হেসেই উড়িয়ে দিত। বলত- ‘আরে তাতে কী হয়েছে? মারা গিয়েছি তো, কী এমন বড় ব্যাপার? সবাই তো মরেই যায়।’ পরপারের সফর যে তাঁর মনে কোনওদিনই ভয় ধরায়নি, সেকথা বলাই বাহুল্য। তাই বোধহয় মৃত্যুর দিন চারেক আগেও অবলীলাক্রমে বলে গিয়েছিলেন, “সকলকেই একদিন চলে যেতে হবে। জানি না, আগামিকাল বেঁচে থাকব কি না।” এমনকী নিজের শেষকৃত্যের ব্যবস্থাও বহু আগে নিজেই করে গিয়েছেন নানা পাটেকর। ব্যক্তি নানাকে নিয়ে মনে বিস্ময় জাগলেও, এটাই সত্যি!
“আমি জানি আমার ১২ মণ কাঠ লাগবে। এটাই আমার শেষ সম্পত্তি। এটুকু নিয়েই আমি বিদায় নেব।”
বছর দুয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন সেকথা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস। ‘দ্য ভ্যাকসিন ওয়ার’ সিনেমার প্রচারের সময়ে এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানান, “একদিন আমাকেও পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। মৃত্যুর পর আমার সম্পত্তি হবে শুধু ১২ মণ কাঠ।” কেন? নিজেই তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন অভিনেতা। নানা বলেন, “আমি জানি আমার ১২ মণ কাঠ লাগবে। এটাই আমার শেষ সম্পত্তি। এটুকু নিয়েই আমি বিদায় নেব।” তিনি জানান যে নিজের শেষকৃত্যের জন্য ইতিমধ্যেই কাঠ আলাদা করে রেখে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অভিনেতা বিশেষভাবে জানিয়েছিলেন, তাঁর শেষকৃত্য যেন ভেজা কাঠ দিয়ে নয়, বরং শুকনো কাঠ দিয়েই করা হয়। কেন? নেপথ্যের কারণ জানলে হতবাক হতে হয়!

নানা পাটেকর বলেছিলেন, “ভেজা কাঠ ব্যবহার করলে বেশি ধোঁয়া হবে। আর সেই ধোঁয়ায় শেষকৃত্যে উপস্থিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-পরিজনদের চোখে জল চলে আসতে পারে। আর সেই জল দেখে অন্য কেউ আবার ভুলও বুঝতে পারে। তাই আমি চাই না আমার শেষকৃত্যে কোনও বোঝাবুঝি তৈরি হোক।” মৃত্যুর মতো গম্ভীর বিষয়কেও নিজের রসবোধে হালকা করে দিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া নিজের মৃত্যু নিয়ে এহেন রসবোধ যে বিরল, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। জানা গিয়েছে, অভিনেতার ইচ্ছে অনুযায়ী পুণের ফার্মহাউসেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
