এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ডাহা ফেল বাংলাদেশ। নিদেনপক্ষে ব্রোঞ্জও পায়নি পদ্মাপারের দেশ। অথচ জাপান যাওয়ার আগে তাদের অধিনায়ক লিটন দাসের গলায় ছিল সোনা জয়ের প্রত্যয়। সেই বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গিয়েছে। হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর সেদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা লিটনের ইস্তফা চেয়ে মুখর। যদিও সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন লিটন।
প্রথম সেমিফাইনালে বৃষ্টিভেজা আউটফিল্ডের কারণে খেলা নেমে আসে ১৩ ওভারে। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে। তৌহিদ হৃদয় করেন ২৫ বলে ৪২। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। হাসান নওয়াজের ২৭ এবং আবদুল সামাদের ৩০ রানের ইনিংস পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে। এরপর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে পদক হাতছাড়া হয় পদ্মাপারের দেশের। আরও লজ্জার হল, জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ৫ ইনিংসের চারটিতেই শূন্য করেছেন। আর একটা ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২ রান।
এরপর থেকে একপ্রকার তুলোধোনা চলছে বাংলাদেশ অধিনায়কের। নেটিজেনরা তাঁকে আর নেতৃত্বে দেখতে চাইছেন না। যদিও সেসব পাত্তা দিচ্ছেন না লিটন। শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে তিনি বলেন, “আমরা প্রথম ১০ ওভার ভালো বল করেছি। এরপর আপনারা দেখলেন অমন কঠিন উইকেটে ওরা কী ধরনের শট খেলেছে। বিশেষ করে থারিন্দু রত্নায়েক। এতেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। ও সত্যিই অসাধারণ ব্যাট করেছে। আমাদের বোলাররা কীভাবে ম্যাচে ফিরবে, তা বুঝে উঠতে পারছিল না। এমন ইনিংসের জন্য ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমরা আশানুরূপ ব্যাটিং করতে পারিনি।”
এরপরেই নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে লিটন বলেন, “আমি নিজেও ভালো পারফরম্যান্স করতে পারিনি। দু’টো ম্যাচেই খারাপ খেলেছি। তবে পদত্যাগ করতে চাই না। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। কোনও দিন ভালো যাবে। কোনও দিন খারাপ। এখানে পদত্যাগ করার কোনও অর্থ নেই। এটাই তো স্বাভাবিক। একটা বড় লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম। যখন সেটা পূরণ করতে পারব না, তখন সবারই খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। দল হিসাবে আমরা অতীতে অনেক কিছু দিয়েছি। ভবিষ্যতেও দেব। তার জন্য আবারও চেষ্টা করব।”
