পুরসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ নিয়ে জটিলতা! কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় হাই কোর্টে। সেই মামলার রায় ঘোষণার আগে পুরভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল আদালত। যদিও আগামী শুক্রবারই এই সংক্রান্ত রায় ঘোষণা হতে পারে।
আগামী ডিসেম্বরের কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ভোট হতে পারে জল্পনা। তার আগেই কলকাতা পুর এলাকায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। আগে যেখানে ছিল ১৪৪টি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০৯টি। এরমধ্যেই এহেন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। মামলা দায়ের করেন দীপু দাস। আদালতে তিনি দাবি করেন, নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে সীমানা নিয়ে একাধিক মারাত্মক আপত্তি জানিয়ে ‘স্পট ভিজিট’ ও নাগরিকদের মতামত জানতে এলাকায় গিয়ে জনশুনানির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান-সহ একাধিক ক্ষেত্রকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি আবেদনকারী। এমনকী কোনও নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এহেন পদক্ষেপ বলেও দাবি করেন।
বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। যদিও এহেন মামলায় কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ দেননি বিচারপতি। তবে সবপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিঙ্গল বেঞ্চ। তারই মধ্যে সিঙ্গল বেঞ্চের এহেন অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন ওই বাম নেতা। আদালতে তাঁর আইনজীবী অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। আইনজীবী বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি যদি নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যায় তাহলে আমাদের এই আবেদনের কোন গুরুত্ব থাকবে না। ফলে অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। যদিও সেই সময় আদালত তা খারিজ করে দেয়।
আজ, বুধবার তালিকা অনুযায়ী বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। সেই শুনানিতেই আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এখনই পুরসভার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারবে না। ইতিমধ্যে যদিও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে যে মামলা হয়েছিল, তার শুনানি শেষ হয়েছে। তবে রায়দান স্থগিত রেখেছেন আদালত। তবে শুক্রবার এই সংক্রান্ত রায় কলকাতা হাই কোর্ট ঘোষণা করতে পারে। নির্দেশে আদালত কি জানায় সেদিকেই নজর সবার।