Hashtagintro

প্রভাসের ‘ফৌজি’তে নেতাজিকে অপমান! ‘ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতি’, ক্ষমা চাওয়ার দাবি চন্দ্র বসুর

গোড়া থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় প্রভাস অভিনীত ‘ফৌজি’। এবার নেতাজিকে অপমানের অভিযোগে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখাল মেগাবাজেট এই ছবি। প্রভাসের ‘ফৌজি’র ঝলকে নাৎসি সর্বাধিনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর সাক্ষাতের দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুললেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। তাঁর অভিযোগ, ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতি করে দেশের বীরসন্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এই ছবিতে। সেই প্রেক্ষিতেই নির্মাতাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

“জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কাজ করার সময় তথ্য বিকৃত করা এবং কাল্পনিক গল্প বলাকে আমি অপরাধ বলেই মনে করি।” তাঁর অভিযোগ, সিনেমাটিতে হিটলারের সঙ্গে নেতাজির কথোপকথন নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষ চন্দ্র বসুর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।

গত ২৩ অক্টোবর, প্রভাসের জন্মদিনে এই পিরিয়ড ওয়ার-অ্যাকশন ড্রামার ঝলক প্রকাশের পরই বিতর্ক দানা বাঁধে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবলম্বনে তৈরি ‘ফৌজি’র ঝলকে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা এবং হিটলারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা নিয়েই আপত্তি উঠেছে দেশের সর্বস্তরে। নেটভুবনেও সমালোচনার ঝড়। রাজনৈতিকমহলেও চাপানোতর! টিজার দেখে একাংশ মামলা দায়েরের দাবিও তুলেছেন। এমন আবহেই সংবাদসংস্থা আইএএনএস-এর সঙ্গে কথোপকথনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন চন্দ্র কুমার বসু। তাঁর মন্তব্য, “জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কাজ করার সময় তথ্য বিকৃত করা এবং কাল্পনিক গল্প বলাকে আমি অপরাধ বলেই মনে করি।” তাঁর অভিযোগ, সিনেমাটিতে হিটলারের সঙ্গে নেতাজির কথোপকথন নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষ চন্দ্র বসুর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।

চন্দ্রকুমারের বক্তব্য, “নেতাজি ফ্যাসিবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করতেন।”

চন্দ্র বসু এও বলেন যে, “সেসময়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করেই নেতাজি জার্মানির হিটলার এবং জাপানের হিডেকি তোজোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। নেতাজির দেশপ্রেমকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন হিটলার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছনোর জন্য নেতাজির ব্যবহৃত সাবমেরিনের ব্যবস্থা করতেও রাজি হয়েছিলেন। তবে তার অর্থ এই নয় যে নেতাজি ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করতেন।” চন্দ্রকুমারের বক্তব্য, “নেতাজি ফ্যাসিবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করতেন।” সেই মর্মেই চন্দ্রবসুর দাবি, “পরিচালকের উচিত ভারতের জনগণ এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে যাঁরা সম্মান করেন, তাঁদের সকলের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”

অন্যদিকে,লখনউয়ে এই বিতর্ক প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টি সাংসদ অবধেশ প্রসাদ বলেন, “নেতাজির ভাবমূর্তি নিয়ে এই ধরনের মতাদর্শ ছড়ানো সম্পূর্ণ দেশবিরোধী। সারা বিশ্বে নেতাজিকে মানুষ কোন উচ্চাসনে রাখতেন এবং তিনি কেমন শ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন, তা আজ কারোর অজানা নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “তাঁকে হিটলার বা কুখ্যাত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা কোনোভাবেই সঠিক হতে পারে না। এটি দেশের জন্যেও ক্ষতিকর।”

Source: Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language