২০ দিনের প্যারোলে ছুটি পাওয়ার পর ফের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। আবেদন ছিল, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হোক। যদিও তাঁর আবেদন মঞ্জুর করল না আদালত। শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে যোধপুর জেলে আত্মসমর্পণ করতে হবে তাঁকে। কারণ, আজই শেষ হচ্ছে আসারামের ছুটির মেয়াদ।
গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসাজনিত কারণে ৮৫ বছরের আসারামকে ২০ দিনের প্যারোল দিয়েছিল আদালত। এই ২০ দিন শেষ হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর। তার আগেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আসারাম। তাঁর আইনজীবী আদালতকে জানান, চিকিৎসার জন্য আসারামের আরও সময় প্রয়োজন। ফলে মেয়াদ বাড়ানো হোক প্যারোলের। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অবস্থিত এক সরকারি আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। তবে আসারামের সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে জেলে আত্মসমর্পণ করতে হবে আসারামকে।
গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসাজনিত কারণে ৮৫ বছরের আসারামকে ২০ দিনের প্যারোল দিয়েছিল আদালত। এই ২০ দিন শেষ হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর।
সম্প্রতি স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে ২০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছিলেন আসারাম। তবে তাঁর সে আবেদন মঞ্জুর করেনি গুজরাট হাই কোর্ট। জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন আসারামের স্ত্রী। শীঘ্রই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে বলে জানা যায়। এদিকে চলতি বছরের জুন মাসে সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পাননি নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসারাম। অসুস্থতাকে হাতিয়ার করে শীর্ষ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। সেই আর্জিও খারিজ হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল আসারামের বিরুদ্ধে। এর পর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ইন্দোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় ২০১৮ সালে রাজস্থান হাই কোর্টের যোধপুর বেঞ্চ ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করে। তার পর থেকে যোধপুরেই জেলবন্দি রয়েছেন ৯০ বছরের আসারাম। এই মামলায় আমৃত্যু কারাবাসের সাজা দেওয়া হয় স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুকে।
